আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভাইফোঁটা। সহোদর, সহোদরাদের আপন, আনন্দ উৎসব। কিন্তু সেই আনন্দ উৎসবেই ঘটল ভয়াবহ হত্যাকান্ড। মধ্যপ্রদেশে, এই ভয়াবহ হত্যাকান্ড ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। ভাইফোঁটার দিন এক কিশোরকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। 

এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে সামান্না গ্রামে। এই গ্রামটি ডামোহ জেলার অন্তর্গত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত কিশোরের নাম ভারত বিশ্বকর্মা। তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর। পরিবারের দাবি, ভাইফোঁটার দিন সে তার বোনের বাড়িতে যাচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎ পিছন থেকে আক্রমণ করা হয় তাকে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য এমন কথাই বলে। 

অভিযুক্তের নাম গুড্ডা পাটেল। অভিযোগ, প্রথমে সে একটি লোহার রড দিয়ে যুবককে আঘাত করে। যুবক পড়ে যায় সেই আঘাতে। তারপর হাতুড়ি দিয়ে বারবার আঘাত করতে থাকে। দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই কিশোরের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

গ্রামবাসীদের দাবি, ঘটনার পরে অভিযুক্তের আচরণ আরও ভয়াবহ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সে কিশোরের মাথা থেকে রক্ত পান করার চেষ্টা করে। এমনকি মাংস খাওয়ার চেষ্টাও করে বলে অভিযোগ। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েক মিনিটের মধ্যে অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। 

ভগবান দাস নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অভিযুক্ত ওই এলাকারই বাসিন্দা। সম্প্রতি সে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে। এর আগে নিজের স্ত্রীকে খুন করার মামলায় জেলে ছিল। ঘটনার দিন, জেল থেকে ছাড়া পেয়ে, হঠাৎ এক অচেনা কিশোরকে দেখে সে আক্রমণ করে। কিশোরকে আঘাত করার পরও অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেনি। বরং মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। পরে গ্রামবাসীরা তাকে ধাওয়া করে। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের সহায়তায়, অভিযুক্তকে ধরে ফেলে পুলিশ। 

নিহত কিশোরের পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে তাদের কোনও ঝামেলা বা বিবাদ ছিল না। হঠাৎ করেই এই আক্রমণ করা হয়। ফলে তারা এই আক্রমণের কোনও কারণ জানেন না। 

ডামোহের সিএসপি, এইচআর পান্ডে জানান যে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে অভিযুক্তের মানসিক সমস্যাও থাকতে পারে বলে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হবে। তার মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে। 

এই ঘটনায় গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই ঘটনায় এখনও স্তব্ধ হয়ে রয়েছে সামন্না গ্রামের মানুষ।