আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রের বিদেশনীতি ও কৌশলগত স্বাধীনতা নিয়ে শুক্রবার তীব্র আক্রমণ শানালেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সাময়িকভাবে রুশ তেল কেনার জন্য যে ৩০ দিনের ছাড়পত্র দিয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করে তিনি অভিযোগ করেন যে মোদি সরকারের আমলে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ করা এক পোস্টে কংগ্রেস সভাপতি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আসলে ভারতের কূটনৈতিক পরিসর সংকুচিত হওয়ারই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, “ভারতকে রুশ তেল কিনতে ‘অনুমতি’ দেওয়া হচ্ছে—এই ভাষাটাই প্রমাণ করে আমাদের কীভাবে দেখা হচ্ছে। যেন আমরা সমান অংশীদার নই, বরং নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত কোনও রাষ্ট্র।”
খাড়গে আরও অভিযোগ করেন, শক্তি ও বাণিজ্য নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোদি সরকার বারবার ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে। তাঁর মতে, ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি আজ গুরুতর সংকটের মুখে।
তিনি সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলীর কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে তিনি বলেন, তথাকথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে তিনি সংঘাত থামাতে ভূমিকা নিয়েছেন, অথচ ভারত সরকার এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
রুশ তেল আমদানির প্রশ্নেও তিনি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলেন। খাড়গের দাবি, মার্কিন অবস্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাচ্ছে এবং তার আগেই ইরান থেকেও তেল আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সমঝোতার সঙ্গেও রুশ তেল কেনা সীমিত করার বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে।
খাড়গে বলেন, “বাণিজ্য, শক্তি নীতি এমনকি তথ্য নীতির ক্ষেত্রেও সরকার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। ভারতের দীর্ঘদিনের স্বাধীন বিদেশনীতি আজ প্রশ্নের মুখে।”
এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের উদাহরণ টানেন—জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী এবং অটল বিহারী বাজপায়ী—যাঁরা তাঁর মতে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখেছিলেন। মোদি সরকারের জনপ্রিয় স্লোগান “ম্যায় দেশ নেহি ঝুকনে দুঙ্গা”-কেও কটাক্ষ করেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, বাস্তবে তা “নির্বাচনী স্লোগান ছাড়া আর কিছু নয়”। খাড়গের কথায়, “এই ঘটনাগুলো দেখে ১৪০ কোটি ভারতীয় নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।”
এদিকে এই মন্তব্যের এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া দেয়নি কেন্দ্র সরকার। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে একটি সীমিত সময়ের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে। সেই ছাড়পত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সমুদ্রে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল ভারত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিনতে পারবে।
