আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহার নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে শুরু হওয়া বচসা শেষমেশ প্রাণ কেড়ে নিল ২২ বছরের এক যুবকের। মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলায় নিজের দুই মামার হাতে খুন হয়েছেন শঙ্কর মাঞ্জি।
এমনটাই দাবি পুলিশের। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ক্যান্ট থানা এলাকার পুলিশ লাইন্সের নির্মীয়মাণ ভবনে, যেখানে বিহারের শেওহর জেলার বাসিন্দা শ্রমিক শঙ্কর মাঞ্জি (২২) নিজের মামা রাজেশ মাঞ্জি (২৫) ও তুফানি মাঞ্জির (২৭) সঙ্গে থাকতেন।
আইসি অনুপ ভার্গব জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শঙ্কর ছিলেন আরজেডির সমর্থক, অপরদিকে অভিযুক্ত দুই মামা সমর্থন করতেন জেডিইউ-কে। ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়, আর নেশার ঘোরে তা রূপ নেয় মারপিটে।
অভিযোগ, রাজেশ ও তুফানি শঙ্করকে টেনে নিয়ে যান কাছের কাদামাটির জায়গায় এবং জোর করে চেপে ধরে রাখেন, যাতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ আহত অবস্থায় শঙ্করকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই রাজেশ ও তুফানিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দু’জনই খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই হত্যার মামলা রুজু হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা হয়েছে।
তারপর থেকেই একপ্রকার তোড়জোড়। নয়া সরকার গঠনের কাজ চলছে পুরোদস্তুর। সূত্রের খবর, বুধ নয়, বৃহস্পতিতে বিহারে নয়া সরকার গঠন হবে। ঠিক তার আগে, বুধবার ইস্তফা দেবেন বিহারের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।
বিহার বিজেপি সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার গান্ধী ময়দানে এনডিএ-র শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির প্রধান নেতারা, বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীরা।
তিনি জানিয়েছেন, 'আগামিকাল বিজেপির আইনসভা দলের সভা রয়েছে এবং তার পরে এনডিএ-র আইনসভা দলের সভা ডাকা হবে। ২০ নভেম্বর গান্ধী ময়দানে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি, বিভিন্ন রাজ্যের প্রধান বিজেপি নেতা, মুখ্যমন্ত্রী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।'
একই সঙ্গে সূত্রের তথ্য, নীতীশ কুমারকে আইনসভা দলের নেতা নির্বাচিত করা হবে ১৯ নভেম্বর। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বিজেপি, জেডি(ইউ), লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস), রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (আরএলএম) এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (ধর্মনিরপেক্ষ) বা এইচএএম (এস) নিয়ে গঠিত জোটের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য দলগুলি থেকে প্রতি ছয়জন বিধায়কের জন্য, একটি মন্ত্রী পদ বরাদ্দ করার কথা ভাবা হয়েছে।
যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি এখনও। একটি করে পদ সম্ভবত আরএলএম এবং এইচএএম(এস), তিনটি এলজেপি(আরভি) এবং বাকি ৩০-৩১টি পদ বিজেপি এবং জেডি(ইউ)-এর মধ্যে ভাগ করা হবে বলে সূত্রের খবর।
