মিল্টন সেন,হুগলি: ভোটের আগেই, পারদ চড়ছে সিঙ্গুরে। চর্চায় ফের জমি এবং কৃষকদের অনিচ্ছা। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। অথচ জমি মালিকের কোনও অনুমতি ছাড়াই জমি ঘিরে শুরু হয়েছে সভার প্রস্তুতি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে সিঙ্গুরে আবারও শুরু হয়েছে ইচ্ছুক অনিচ্ছুক তরজা! অভিযোগ জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ঠ সরকারি দপ্তরে। তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে তৃনমূল কংগ্রেসের তরফে। সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্নার অভিযোগ, সিঙ্গুরের যে জমিতে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী সেই জমির মালিক যারা তারা অনেকেই অনুমতি দেননি। এই মর্মে তারা পঞ্চায়েত বিডিও অফিস থানায় অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য জমি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন ২৬ জন কৃষক। তাঁরা তাঁদের অভিযোগ জমা দিয়েছেন সরকারি দপ্তরে।
এই প্রসঙ্গে সিঙ্গুরের গোপালনগর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অমিও ধারা বলেছেন, 'সিংয়ের ভেড়ির যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সভা হচ্ছে, সেখানে একটি কারখানা ছিল। কারখানা সংলগ্ন এলাকায় দশ বিঘা জমি আছে। সেই জমি তথা কারখানার মালিক গোপালনগর পঞ্চায়েতের লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি জমি ব্যবহারের সম্মতি দেননি। প্রধানমন্ত্রী সভা করলে আপত্তি নেই। কিন্তু চাষীদের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। সরকারি অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী আসছেন ভালো কথা। তিনি শিল্প বিরোধী নন। সকলেই চাইছেন শিল্প হোক ছ'শো একর জমিতে। পাশাপাশি চারশ একর উর্বব জমিতে চাষ হোক।'
বেচারাম মান্না বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যে মাঠে সভা করবেন সেখানকার জমির মালিক যারা তাদের মধ্যে ২৬ জন তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন জমি মালিকদের কোনও রকম সম্মতি ছাড়াই তাঁদের জমিতে সবার প্রস্তুতি চলছে। যেটা অত্যন্ত অনৈতিক কাজ। দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি। সংবিধানের শপথ নিয়েছেন। তার উচিত আইন মেনে চলা। কিন্তু এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের ১৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রী যে জমিতে সভা করবেন সেখানকার মালিকদের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। দেশের প্রধানমন্ত্রী এরকম বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করছেন। একদিকে এস আই আর নিয়ে মানুষকে বিব্রত করছেন। অন্যদিকে এই ধরনের অনৈতিক কাজ করছেন। সিঙ্গুরের এই জনসভা তার দম্ভের একটা পরিচয়। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।যেহেতু জমির অনুমতি নেই সেক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।নরেন্দ্র মোদি জনগণের মতকে উপেক্ষা করেই সব সময় কাজ করেন। এর আগেও বহু নেতা এসেছে সিঙ্গুরে। ওরা যত আসবে যত বিভ্রান্তিমূলক কথা বলবে ততই মমতা ব্যানার্জির পক্ষে থাকবে মানুষ।'
ছবি পার্থ রাহা।
