আজকাল ওয়েবডেস্ক: এ যেন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। বাংলো ছেড়ে ব্যক্তিগত বাড়িতে উঠলেন লালু প্রসাদ যাদব। সেই সঙ্গেই বদলে গেল লালুর দৈনন্দিন রুটিন, চারপাশের লোকজন। আরজেডি-র রাজনীতিতে সূচনা হল নয়া যুগের।

দলীয় প্রধান থেকে মুক্যমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, কয়েক দশক ধরে, লালু যাদবের বাড়ি মানেই ছিল খোলামেলা পরিবেশ। তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর ১, অ্যান মার্গের বাড়ি থেকে ১০, সার্কুলার রোডের পারিবারিক বাড়ি- সবেতেই সমর্থক, গ্রামবাসী, সাংবাদিক, দলীয় কর্মী এবং মন্ত্রীরা অবাধে প্রবেশাধিকার উপভোগ করতেন। সেই দীর্ঘ পর্যায়টি শেষ হল।

জানা গিয়েছে, নতুন বাড়ির নিয়ম কঠোর হয়েছে। আর কেউ আবাধে সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না। গেলেই সাক্ষাৎ হবে না, দর্শনার্থীদের স্ক্রিনিং করা হবে, এমনকী দলীয় কর্মীদেরও পূর্ব অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। কারণ যাদব পরিবারের প্রাথমিক লক্ষ্য এখন লালুর স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার।

মেডিকেল টিম নিয়মিত লালু যাদবকে দেখতে তাঁর নয়া বাড়িতে আসা-যাওয়া করে। চিকিৎসকরাই লালুর শান্তি এবং বিশ্রাম নিশ্চিত করার জন্য বাড়িতে উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক আলোচনা এবং সময়কাল উভয়ই সীমিত করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন, তাঁর ১, অ্যান মার্গ প্রায় জনসাধারণের অভিযোগ কেন্দ্রের মতো কাজ করত। বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ প্রতিদিন আবেদনপত্র নিয়ে আসতেন, সাংবাদিকরা ভোর থেকেই অপেক্ষা করতেন এবং মন্ত্রীরা কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রবেশ করতেন।

পরবর্তীতে, রাবড়ি দেবীর মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ১০, সার্কুলার রোড পরিবারের স্থায়ী রাজনৈতিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়। সদর দরজা চব্বিশ ঘন্টা খোলা থাকতো, উৎসবগুলি প্রায়শই রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হত। সমর্থকরা কোনও বাধা ছাড়াই প্রবেশ করতেন এবং দলীয় কর্মীরা প্রায়শই সেখানে শিবির তৈরি করতেন।

লালু যাদবের নতুন বাড়ির কাঠামোগত প্রকৃতিও আরজেডির মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়। বেশিরভাগ সাংগঠনিক কাজ, জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক কৌশলগত সভা এখন বিরোধীদল নেতা তেজস্বী যাদবই পরিচালনা করেন। লালু যাদব দলের  নোঙ্গর হিসেবে থাকলেও, দৈনন্দিন কার্যক্রম এখন তরুণ নেতৃত্বের হাতে রয়েছে।

অনেক সিনিয়র দলীয় কর্মীর জন্য, পরিবর্তনটি একটি আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। খোলামেলা রাজনীতি এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পরিচিত এই নেতা এখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। ভেঙেছে স্বাস্থ্য। সীমাবদ্ধ অনেক, তাই লালুকে এখন বেশিমাত্রায় জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন করেই রাখা হচ্ছে।

লালু যাদবের নতুন বাড়িকে কেবল বাসস্থান পরিবর্তন হিসেবেই নয়, বরং বিহারের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। জনগণের অবিচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকারের যুগ এখন পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে একটি শান্ত, আরও কৌশলগত রাজনৈতিক শৈলীর পথ তৈরি করছে।