আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লিতে আমলাকন্যার নৃশংস হত্যাকান্ডের পর কেটে গিয়েছে দু'দিন। শুক্রবার প্রকাশ্যে এসেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। পাশাপাশি, আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত পরিচারক শহীদ মীনাকে।
সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর হাত-পায়ে কালশিটের দাগ রয়েছে। ভেঙ্গে গিয়েছে নাক ও ঘাড়ের হাড়। পেশী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে তরুণীর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে থাইরয়েড কার্টিলেজও। তদন্তকারীদের অনুমান, তরুণীর সঙ্গে বারংবার ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় পরিচারকের। তার পর ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় তরুণীকে। তরুণীকে খুন করার পরই ধর্ষণ করা হয় তাঁকে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে এমস দিল্লি-র ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান সুধীর গুপ্ত জানিয়েছেন, তরুণীকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শরীরের আঘাত চিহ্ন দেখে বোঝা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে হাতাহাতি হয় তরুণী এবং পরিচারকের মধ্যে। তার পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাঁকে।
পাশপাশি, অভিযুক্ত ১৯ বছরের শহীদ মীনা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে, তাঁর খুন করার কোনও অভিপ্রায় ছিল না। তাঁর টাকার প্রয়োজন ছিল। তরুণী টাকা দিতে অস্বীকার করাতেই 'বাধ্য' হয়ে তাঁকে খুন করে। একইসঙ্গে মৃত তরুণীকে 'দিদি' বলেও সম্বোধন করেন মীনা।
প্রসঙ্গত, সাউথ দিল্লির কৈলাস হিলের আইআরএস আধিকারিকের বাড়িতে বহু বছর কাজ করত মীনা। কিন্তু ক্রমাগত টাকা ধার করার প্রবণতা দেখা যাওয়ায় তাঁকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর পরই মীনা টাকা হাতাতে দিল্লির বাড়িতে উপস্থিত হন। বাড়ির সকলের দৈনিক রুটিন আগে থেকেই জানা ছিল তাঁর। তাই বাবা-মার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে ঢুকে পড়ে মীনা। এর পর সোজা আমলার ২২ বছরের কন্যার ঘরে যান মীনা। সেখানেই প্রথমে তরুণীকে খুন করা হয়। এর পর চলে ধর্ষণ। বাড়ির যে আলমারিতে নগদ অর্থ এবং গয়নাগাটি রাখা ছিল, তার লকার পাসকোডের মাধ্যমে খোলা যেত। শুধুমাত্র আমলা, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর কন্যার আঙুলছাপ দিতেই খুলত লকার। তাই তরুণীকে খুন করার পর তাঁর দেহ টেনে নিয়ে গিয়ে আঙুল ছাপের পাসকোড দিয়ে লকার খোলেন মীনা। এর পর সেই টাকা এবং গয়নাগাটি নিয়ে দ্বারকার একটি হোটেলে গা ঢাকা দেন। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকেতের আদালতে পেশ করার পর তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
















