আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই কেরালার সংবাদমাধ্যমে ঘটে গেল এক অস্বস্তিকর ও নজিরবিহীন ঘটনা। কেরালায় বিজেপির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত মালয়ালম দৈনিক জনভূমি ভুলবশত তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML)–এর মুখপত্র 'চন্দ্রিকা' পত্রিকার সম্পূর্ণ সম্পাদকীয় পাতা ছাপিয়ে ফেলেছে। এই ঘটনা ঘটে জনভূমির কান্নুর–কাসারগোড সংস্করণে, যা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।

পাঠকেরা লক্ষ্য করেন, জনভূমির চতুর্থ পাতায় চন্দ্রিকার মাস্টহেড ছাপা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে রয়েছে IUML–এর রাজ্য সভাপতি সৈয়দ সাদিক আলি শিহাব থানগাল, প্রাক্তন মন্ত্রী এম কে মুনীর ও নেতা মহম্মদ শাহ–র লেখা তিনটি প্রবন্ধ। শুধু তাই নয়, ওই পাতায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম নিয়ে একটি লেখা এবং ইয়েলাহাঙ্কা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও ছাপা হয়, যা আদৌ জনভূমির জন্য প্রস্তুত করা হয়নি।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জনভূমির কান্নুর ব্যুরো চিফ গণেশ মোহন জানান, এটি মুদ্রণ প্রক্রিয়ার সময় ঘটে যাওয়া একটি কারিগরি বিভ্রাট। দ্য হিন্দু–র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনভূমি ও চন্দ্রিকা দু’টি কাগজই কান্নুরের একই বেসরকারি কম্পিউটার-টু-প্লেট (CTP) সেন্টারে হয়। সেখানেই ভুল করে চন্দ্রিকার সম্পাদকীয় পাতার প্লেট জনভূমির প্লেটের সঙ্গে মিশে যায় এবং তা সরাসরি ছাপাখানায় পাঠানো হয়। এই ভুলটি নজরে আসেনি প্রতীক্ষা প্রিন্টার্সে, যেখানে জনভূমির পাশাপাশি মাধ্যমম, সুপ্রভাতম ও বিকশনম-এর মতো আরও একাধিক স্থানীয় সংবাদপত্র ছাপা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি শিবিরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা হয় এই কারণে যে, সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় পাতায় বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে এমন কোনও  লেখা ছিল না। কাসারগোডের এক বিজেপি কর্মী দ্য হিন্দু–কে বলেন, সেদিনের চন্দ্রিকার সম্পাদকীয় বিষয়বস্তুর কারণে দলের ভাবমূর্তির বড় কোনও  ক্ষতি হয়নি।

অন্যদিকে, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চন্দ্রিকা শিবিরে রীতিমতো খুশির হাওয়া বইছে। IUML–এর রাজ্য সভাপতি সৈয়দ সাদিক আলি শিহাব থানগাল একে নতুন বছরের মনে রাখার মতো চমক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার পাঠকদের কাছেও নিজের লেখা পৌঁছে দিতে পারাটা তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের। চন্দ্রিকার সম্পাদক কামাল ভারাদূরও এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, নতুন বছরের প্রথম দিনেই সম্পাদকীয় পাতার পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া ভবিষ্যতের জন্য শুভ ইঙ্গিত।

উল্লেখ্য, জনভূমি এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিল, যখন দিল্লি হাই কোর্ট কেরালাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কর্মা নিউজ ও জনম টিভির সঙ্গে জনভূমিকেও সাংবাদিক ধন্যা রাজেন্দ্রনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত মানহানিকর কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বছরের প্রথম দিনেই ঘটে যাওয়া এই সম্পাদকীয় বিভ্রাট কেরালার তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে এক ব্যতিক্রমী এবং ব্যঙ্গাত্মক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।