আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতের একটি 'খারাপ প্রতিবেশী' আছে- যারা ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয় এবং এই ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার সম্পূর্ণ অধিকার নয়াদিল্লির রয়েছে।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এস জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তার নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত সে বিষয়ে বাইরের কোনও নির্দেশ গ্রহণ করবে না।
তিনি আরও বলেন, "কিন্তু যখন সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত খারাপ প্রতিবেশীদের কথা আসে, তখন তার জনগণকে রক্ষা করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের এবং যা যা প্রয়োজন তা-ই করবে। আপনি আমাদের কাছে আমাদের জল ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ করবেন এবং একই সঙ্গে আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়াবেন, তা হতে পারে না।"
বিদেশমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে নয়াদিল্লিই সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন,"আমরা কীভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করব তা আমাদের ব্যাপার। আমরা কী করব বা কী করব না, তা কেউ আমাদের বলতে পারে না। নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের যা যা করতে হবে, আমরা তা-ই করব।"
ভারতের পশ্চিম প্রান্তের প্রতিবেশীর কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, দেশগুলোর কঠিন প্রতিবেশী থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদের ইচ্ছাকৃত ও ধারাবাহিক ব্যবহারের কারণে ভারতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তিনি বলেন, "যদি কোনও দেশ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং অনুতপ্ত না হয়ে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাবে, তবে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।"
জয়শঙ্কর আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিকে জল-বণ্টন চুক্তি-সহ বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও যুক্ত করেন। ভারত কয়েক দশক আগে জল-বণ্টন চুক্তি করেছিল বলে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা সুসম্পর্কের পূর্বশর্ত। তিনি বলেন, "অনেক বছর আগে আমরা একটি জল-বণ্টন চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলাম, কিন্তু যদি কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চলে, তবে কোনও সুসম্পর্ক থাকে না। যদি সুসম্পর্ক না থাকে, তবে সেই সুসম্পর্কের সুবিধাগুলোও পাওয়া যায় না।" তিনি আরও বলেন, "আপনি বলতে পারেন না, দয়া করে আমার সঙ্গে জল ভাগ করে নিন, কিন্তু আমি আপনার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাব। এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।"
২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাঁও-তে পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের হাতে বেশ কয়েকজন পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছায়। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইসলামাবাদে বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির নেওয়া ধারাবাহিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
