আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। কিন্তু সেই বন্ধুত্ব যখন প্রেমের দাবি নিয়ে সামনে এল, তা মেনে নিতে পারেননি যুবতী। আর সেই প্রত্যাখ্যানেই নেমে এল মর্মান্তিক পরিণতি। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শৈশবের বান্ধবীকে কুপিয়ে খুনের পর আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের উত্তর কন্নড় জেলার ইয়েলাপুর শহরে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবতীর নাম রঞ্জিতা বনসোড়ে (৩০)। অভিযুক্ত রফিক ইমামসাবাও পেশায় শ্রমিক ছিলেন। শনিবার কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে রঞ্জিতার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রফিক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় যুবতীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই নিকটবর্তী এক জঙ্গল থেকে রফিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, রঞ্জিতা ও রফিক স্কুলজীবন থেকেই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। বছর ১২ আগে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা শচীন কাটেরার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রঞ্জিতার। তাঁদের ১০ বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে পারিবারিক অশান্তির জেরে বেশ কিছুকাল ধরে স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে ইয়েলাপুরে বাপের বাড়িতেই থাকতেন ওই যুবতী। একটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের সহায়িকা হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

পরিবার সূত্রে খবর, পুরনো বন্ধু হিসেবে রঞ্জিতাদের বাড়িতে রফিকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। মাঝেমধ্যেই সেখানে খাওয়াদাওয়া করতেন তিনি। তবে সম্প্রতি রঞ্জিতাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন রফিক। রঞ্জিতা এবং তাঁর পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে এই প্রস্তাব তাঁদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। পুলিশের অনুমান, সেই আক্রোশ থেকেই খুনের পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত যুবক।

শনিবার বিকেলে স্কুল থেকে ফেরার পথে নির্জন জায়গায় রঞ্জিতাকে আটকান রফিক। সেখানে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর পর আচমকাই রফিক তাঁর কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবতীর গলায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় রঞ্জিতা লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্ত চম্পট দেন। জঙ্গলে যে গাছ থেকে রফিকের দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেখান থেকে দড়ি এবং মদের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উত্তর কন্নড় জেলার এসপি দীপন এমএন জানিয়েছেন, "ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।"