আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় এক বছর আগে দিল্লির সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছিল। এই বিতর্কের পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতির কাছে জমা পড়েছে। তদন্ত এবং সম্ভাব্য ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মুখে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। দিল্লিতে বিচারপতি বর্মার সরকারি বাসভবনে আচমকা আগুন লাগে। দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর সময় বাড়ির ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের স্তূপ দেখতে পান বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্রের দাবি, সেই নগদের স্তূপ কিছু ক্ষেত্রে দেড় ফুটেরও বেশি উঁচু ছিল। এই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নজর দেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপরই বিচারপতি বর্মাকে দিল্লি হাই কোর্ট থেকে স্থানান্তর করে এলাহাবাদ হাই কোর্টে পাঠানো হয়।
তবে শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন বিচারপতি বর্মা। তাঁর দাবি, তাঁর বাসভবন থেকে কোনও নগদ অর্থ উদ্ধার হয়নি এবং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংসদীয় প্যানেলের কাছে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনাস্থলে প্রথম প্রতিক্রিয়াশীলও ছিলেন না।
বিচারপতি বর্মা প্রশ্ন তোলেন, “যদি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ঘটনাস্থল সঠিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হন, তবে তার দায় আমার উপর কেন বর্তাবে?” তাঁর মতে, পুলিশ এবং দমকল বিভাগের উপস্থিত আধিকারিকরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে এই ঘটনায় তাঁকে দায়ী করা যুক্তিসঙ্গত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, ২০২৫ সালের আগস্টে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা বিচারপতি বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ‘জাজেসঅ্যাক্ট, ১৯৬৮’-এর অধীনে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
এই তদন্ত কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান বিচারপতি বর্মা। তাঁর যুক্তি ছিল, রাজ্যসভার উপ-সভাপতি ইতিমধ্যেই তাঁর অপসারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব খারিজ করেছেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
এর আগেই সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে জানায়, যে ঘর থেকে নগদ অর্থ উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে, সেটির উপর বিচারপতি বর্মা এবং তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ ছিল। ফলে অভিযোগের গুরুত্ব আরও বাড়ে।
&t=546s
এই পরিস্থিতিতে, তদন্তের চাপ এবং সম্ভাব্য ইমপিচমেন্টের মুখে দাঁড়িয়ে অবশেষে পদত্যাগের পথই বেছে নিলেন বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।















