শুক্রবার শেয়ারবাজারে শক্তিশালী জোয়ারের সাক্ষী থাকল বিনিয়োগকারীরা। দেশীয় বাজারে ইতিবাচক সেন্টিমেন্টের জেরে সেনসেক্স এক লাফে ৮৫০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ ৭৭,৫০১ স্পর্শ করে। একইসঙ্গে নিফটি ৫০ সূচকও প্রায় ২৫০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,০৩৬-এ পৌঁছে যায়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তর। শুধু বড় কোম্পানিই নয়, মিড ও স্মল-ক্যাপ শেয়ারগুলিও ১% এর বেশি বাড়তি লাভ দেখিয়েছে।
2
9
এই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বিনিয়োগকারীদের মোট সম্পদ প্রায় ৫ লক্ষ কোটি বেড়েছে, যা বাজারে আস্থার স্পষ্ট প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক ইতিবাচক কারণ একসঙ্গে কাজ করায় এই শক্তিশালী অবস্থা সম্ভব হয়েছে।
3
9
প্রথমত, বিশ্বের বাজারে স্থিতিশীলতা ভারতীয় বাজারকে বড় সহায়তা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় বাজারে সাম্প্রতিক ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মনোবল বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা কিছুটা কমায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার ভারতীয় বাজারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
4
9
দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ক্রয় বাজারকে ত্বরান্বিত করেছে। গত কয়েক সেশনে এর ধারাবাহিক বিনিয়োগ বাজারে নতুন গতি এনেছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, আইটি এবং অটো সেক্টরে কেনাকাটার চাপ বেশি ছিল।
5
9
তৃতীয়ত, দেশের অর্থনৈতিক মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। জিডিপি বৃদ্ধির প্রত্যাশা, স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতি এবং কর্পোরেট আয়ের উন্নতি— এই সবই বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত স্থিতিশীলতাও বাজারকে সমর্থন করছে।
6
9
চতুর্থত, ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমে আসায় আমদানি ব্যয় হ্রাসের আশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
7
9
পঞ্চমত, টেকনিক্যাল দিক থেকেও নিফটি ২৪,০০০ স্তর পুনরুদ্ধার করায় বাজারে নতুন বুলিশ ট্রেন্ডের ইঙ্গিত মিলেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই স্তর ধরে রাখতে পারলে আগামী দিনে আরও ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখা যেতে পারে।
8
9
সব মিলিয়ে, দেশীয় ও বিশ্বের ইতিবাচক ফ্যাক্টরের সমন্বয়ে বাজারে এই জোরালো অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, বাজারে অস্থিরতা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই করে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ।
9
9
আগামী দিনে কর্পোরেট ফলাফল, বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতিই বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেখানে বাজারের গতিপথ কোন দিকে থাকে সেটাই দেখার।