আজকাল ওয়েবডেস্ক: লক্ষ্য ছিল এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরা। ইরান ও আমেরিকার ভয়াবহ সংঘাতের জেরে মাঝসমুদ্রে আটকে থাকতে হল তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়। অবশেষে প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে, মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন শুনে ভারতে পৌঁছল এলপিজি ভর্তি ভারতীয় জাহাজ ‘পাইন গ্যাস’।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রুয়াইস বন্দর থেকে গ্যাস নিয়ে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল জাহাজটি। তার ঠিক একদিন পরেই ইরানের ওপর আচমকা হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ হয়ে ওঠে পারস্য উপসাগর। যুদ্ধের জেরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়ে। চরম উদ্বেগে পড়ে প্রশাসন।

পাইন গ্যাসের চিফ অফিসার সোহন লাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা। তিনি জানান, গত ১১ মার্চ রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের আবহে তাঁরা আটকে পড়েন। আকাশজুড়ে তখন ড্রোন আর মিসাইলের আনাগোনা। শেষ পর্যন্ত ২৩ মার্চ যাত্রার অনুমতি মেলে। তবে স্বাভাবিক বাণিজ্যপথ নয়, ইরানের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় লারক দ্বীপের পাশ দিয়ে একটি সরু ও দুর্গম চ্যানেল ব্যবহার করতে।

মুম্বইয়ের জাহাজ মালিক সংস্থা এবং ভারত সরকার এই কঠিন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিয়েছিল জাহাজের ২৭ জন কর্মীর ওপর। সোহন লাল বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আমরা এই ঝুঁকি নিতে রাজি কি না। সবাই একবাক্যে রাজি হয়ে যাই।”

নিরাপত্তার খাতিরে ভারতীয় নৌসেনা কোনও খামতি রাখেনি। ওমান উপসাগর থেকে আরব সাগর পর্যন্ত টানা ২০ ঘণ্টা পাইন গ্যাসকে ঘিরে রেখেছিল নৌসেনার চারটি যুদ্ধজাহাজ। শেষ পর্যন্ত ৪৫,০০০ টন গ্যাস নিয়ে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছয় জাহাজটি। তার আগেই ‘জাগ বসন্ত’ নামের অন্য একটি জাহাজ প্রায় ৪৮,০০০ টন গ্যাস নিয়ে কান্ডলা বন্দরে নিরাপদে পৌঁছতে সক্ষম হয়।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগেই স্পষ্ট করেছেন, এই জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের সঙ্গে কোনও বিশেষ লেনদেন বা চুক্তি হয়নি। পুরোপুরি কূটনৈতিক তৎপরতা ও সাহসিকতার ওপর ভর করেই যুদ্ধ পেরিয়ে দেশে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দিতে সফল হলেন ভারতীয় নাবিকরা।