আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার শেষ নেই। গ্যাসে আকাল এবং দাম বৃদ্ধি নিয়ে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এর উপর যোগ হল ওষুধের দাম। ১ এপ্রিল থেকে বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয়, অত্যাবশকীয় এবং জীবনদায়ী ৯০০টিরও বেশি ওষুধের দাম। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ)-র জানিয়েছে ভারতে প্রায় ৯০০টি ওষুধের দাম ১ এপ্রিল থেকে সামান্য বাড়তে চলেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসার ওষুধ-সহ সাধারণভাবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এনপিপিএ তার সর্বশেষ নির্দেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ন্যাশনাল লিস্ট অফ এসেনশিয়াল মেডিসিনস (এনএলইএম)-এর অধীনে তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) পূর্বানুমোদন ছাড়াই বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে। এই ওষুধগুলি বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যের মাধ্যমে সরকারি মূল্য নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকে।
এই সংশোধনটি পাইকারি মূল্য সূচকের (ডব্লিউপিআই) বার্ষিক পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ২০২৫-এর পাইকারি মূল্য সূচক বা হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স (ডবলিউপিআই)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা ম্যাক্সিমাম রিটেল প্রাইস (এমআরপি) ০.৬৫% পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে।
প্রভাবিত তালিকায় সংক্রমণ, ব্যথা নিরাময় এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ রয়েছে। যা দেশের বৃহত্তর জনসংখ্যার মানুষকে প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৩-র ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডারে (ডিপিসিও) বলা হয়েছে, ডবলিউপিআই পরিমার্জন অনুযায়ী বার্ষিক এমআরপি সংশোধন স্বয়ংক্রিয় ভাবেই প্রযোজ্য হয়। ফলে, বাজারে ওষুধের দাম বৃদ্ধি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও আগের বছরগুলির এই বৃদ্ধি সামান্যই। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সালের এপ্রিলে অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছিল। যার তুলনায় এই বছরের দাম সংশোধন সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন।
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ার ফলে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের বেশি উৎপাদন ব্যয়ের সম্মুখীন হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি। তবে শিল্প বিশেষজ্ঞদের দাবি, ওষুধের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের কোনও সম্পর্ক নেই।
ড্রাগস প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডারের নিয়ম কার্যকর করার পাশাপাশি ওষুধের পণ্যের মূল্য নির্ধারণের অংশ হিসেবে এনপিপিএ নিয়মিতভাবে এই ধরনের দাম সংশোধন করে থাকে। এই নিয়ন্ত্রক কাঠামোটি নির্ধারিত ফর্মুলেশনের প্রস্তুতকারকদের পাইকারি মূল্য সূচকের ওঠানামার উপর ভিত্তি করে বার্ষিকভাবে দাম ঠিক করার সুযোগ দেয়।















