আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'বন্দেমাতরম' এখন 'জনগণমন'-এর সমান মর্যাদা পাবে। জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল হিসাবে বিবেচনা করা হবে 'জনগণমন'-কে। মঙ্গলবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে এমনই স্থির করা হয়েছে। এখন থেকে শুধু 'জনগণমন' নয়, 'বন্দেমতরম' গানের অসম্মান করলেও শ্রীঘরের হাওয়া খেতে হতে পারে।

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রীসভার বৈঠকে ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মানহানি প্রতিরোধ আইনের তৃতীয় ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান মন্ত্রীসভার সদস্যরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। বর্তমানে ওই আইনে জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার উল্লেখ রয়েছে। যা এবার থেকে কার্যকর হবে 'বন্দেমতরম' গানের ক্ষেত্রেও।

 

আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে বা জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন কোনও রকম গোলমাল করার চেষ্টা করলে তার সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা দু'টোই হতে পারে। এছাড়া, ফের একই অপরাধ করলে কমপক্ষে এক বছরের জেল হতে পারে। ২০০৫ সালের আগে এই আইনের আওতায় জাতীয় পতাকার প্রতি যে কোনওরকম অসম্মানজনক ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা ছিল কোমরের নীচে পতাকা পরা কিম্বা রুমাল বা বালিশে পতাকা ছাপানোর মতো কার্যকলাপেও।

 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। সম্প্রতি সংসদে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে অনেকেই দাবি তুলেছিলেন, গানটিকে জাতীয় সঙ্গীতের সমান মর্যাদা দেওয়া হোক। বাংলায় বিজেপি-র ঐতিহাসিক জয়ের পর মন্ত্রীসভার এই সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে রাজনৈতিক মহল।