আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল। মৃতদের তালিকায় রয়েছে সদ্যোজাত শিশুও। হাজারের বেশি বাসিন্দা অসুস্থ এখনও। বহু মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হাহাকার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভাগীরথপুরায়। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ভাগীরথপুরায় মারাঠি মহল্লায় ছ'মাসের এক সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সদ্যোজাতর মা সাধনা সাহু অভিযোগ জানিয়েছেন, বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার জেরেই তাঁর সদ্যোজাত ছেলের মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতেই গুঁড়ো দুধের সঙ্গে জল মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়েছিল দিন কয়েক আগে। সেটি খাওয়ার পর থেকেই ঘনঘন বমি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। 

প্রথমে একটি সরকারি হাসপাতালে সদ্যোজাতকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সদ্যোজাতর মৃত্যুর পরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। সাধনা জানিয়েছেন, তাঁর ১০ বছরের মেয়েও সম্প্রতি পেটের যন্ত্রণায় ভুগছে। ওই পানীয় জল তাঁর মেয়েও খেয়েছিল। ১০ বছর প্রার্থনার পর পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। সদ্যোজাতর মৃত্যুর পর শোকগ্রস্ত গোটা পরিবার। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ১০০ জন। অনেকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। শতাধিক রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুধুমাত্র গতকাল বুধবার ৬০ জন নতুন করে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন, 'আমরা সকল অসুস্থ বাসিন্দাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে ওই গ্রামে‌। গতকাল থেকে হাসপাতালে রোগীদের ভর্তির হার কমেছে। অসুস্থদের মধ্যে অধিকাংশই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। যাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর, তাঁদের শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।' 

বিজেপি মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অরবিন্দ হাসপাতালে ১০০ শয্যা ও মেওয়াই হাসপাতালে শতাধিক শয্যার ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে ৫০টি নতুন জলের ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। বাসিন্দাদের জল ফুটিয়ে খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে ক্লোরিন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আগামী দু'দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।