আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৭৯ বছরের শরিফ আহমেদ। তিন দশক ধরে তাঁকে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল পরিবার। সেই শরিফই আচমকা গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় এই অপ্রত্যাশিত পুনর্মিলন সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার খাতাউলি শহরের মহল্লা বলরাম এলাকার।
১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান শরিফ আহমেদ:
শরিফের প্রথম স্ত্রী ১৯৯৭ সালে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে শরিফ পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে ল্যান্ডলাইন ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখলেও ধীরে ধীরে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গে তাঁর দেওয়া ঠিকানায় শরিফকে বেশ কয়েকবার খোঁজার চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি।
শেষপর্যন্ত পরিবার ধরেই নেয় যে শরিফ আহমেদ মারা গিয়েছেন।
শরিফকে ফের ঘরমুখো, সৌজন্যে এসআইআর নথি
চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বৃদ্ধ দুই দিন আগে খাতাউলিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসেন। তাঁর বাড়িন পেরা ছিল ২৮ বছর পর! পরিবারের সদস্য শরিফের আকস্মিক আবির্ভাবে সকলেই হতবাক। তবে তিনি বাড়ি ফেরায় তাঁর আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দও লক্ষ্য করা গিয়েছে।
প্রায় তিন দশক পর শরিফ আহমেদ জানতে পারেন যে, গত ২৮ বছরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন-সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মারা গিয়েছেন।
পরিবার কীভাবে শরিফকে খুঁজেছিল?
শরিফ আহমেদের ভাগ্নে মোহাম্মদ আক্লিম জানান, পরিবার প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গর বিভিন্ন জায়গায় (খড়গপুর এবং আসানসোল) তাঁকে খুঁজেছে, কিন্তু কোনও সন্ধান পাননি। যখন খবর আসে যে শরিফ ফিরে এসেছেন, তখন পরিবার প্রথমে তা বিশ্বাস করতে পারছিল না।
আত্মীয়দের জন্য স্বস্তি
শরিফের আগমনে বাড়িতে ভিড় জমে যায়, মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে এবং দূরের আত্মীয়রা ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে।
শরিফ আহমেদ জানান, ১৯৯৭ সালে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের সময় সীমিত আর্থিক সংস্থান এবং যোগাযোগের অসুবিধার জেরে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন। তবে এখন শুধুমাত্র সরকারি নথিপত্রের প্রয়োজনেই তিনি ফিরে এসেছেন, এরপর তিনি ফের ফিরে যাবেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ এবং আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার পর শরিফ এখন পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন। এ রাজ্যেই তিনি প্রায় তিন দশক ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করছেন।
