আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৮ বছরের অপেক্ষার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় অনেকেই আনন্দিত। তবে সবচেয়ে খুশি বোধহয় ওয়াইন, হুইস্কি এবং গাড়িপ্রেমীরা।
এই বাণিজ্য চুক্তিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন "সব বাণিজ্য চুক্তির জননী" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই চুক্তি ভারতীয় পণ্যের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোর বাজার খুলে দেবে। একই সঙ্গে এই চুক্তির ফলে শুল্ক কমবে, ফলে ভারতে আমদানি করা ইউরোপীয় পণ্য সস্তা হবে।
কী কী সস্তা হবে?
মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, অডি গাড়ির দাম কমবে:
মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ এবং অডির মতো ইউরোপীয় গাড়িগুলিতে বর্তমানে ১০০ শতাংশের বেশি আমদানি শুল্ক আরোপিত হয়। চুক্তি অনুসারে, ১৫,০০০ ইউরোর বেশি দামের গাড়িগুলোতে (প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা) এখন ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়। এই শুল্ক আরও কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে, ফলে এই গাড়িগুলোর দাম লক্ষ লক্ষ টাকা কমে যাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রকের একজন কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ (ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন) "কোটা" ভিত্তিক শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল ভারতীয় গাড়ি শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভারতের অটোমোবাইল ক্ষেত্র মূলত ছোট গাড়ির (১০ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দামের) ওপর নির্ভরশীল এবং এই ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহ "খুব বেশি নয়"। তিনি বলেছেন, "সুতরাং, বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই দেশে ২৫ লক্ষ টাকার নীচে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন গাড়িগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতে রপ্তানি করবে না। তারা এখানে গাড়ি তৈরি করতে পারে, কিন্তু তারা সেই গাড়িগুলো রপ্তানি করবে না।"
সুরাপ্রেমীদের জন্য সুসংবাদ:
এই চুক্তির ফলে ফ্রান্স, ইটালি এবং স্পেনের মতো ইউরোপীয় বাজার থেকে আমদানি করা ওয়াইন এখন অনেক সস্তা হবে। বর্তমানে ভারত, আমদানি করা ওয়াইনের উপর ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করে। নতুন চুক্তিতে এই শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। যার অর্থ হল দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তবে, দেশীয় বাজারে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য ৫-১০ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে ভারতে কগনাক, প্রিমিয়াম জিন এবং ভদকা সস্তা হবে।
তবে, ভারতীয় বাজারকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ২.৫ ইউরোর কম দামের ওয়াইনের জন্য কোনও শুল্ক ছাড় থাকবে না। চুক্তি অনুসারে, ভারতীয় ওয়াইনও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে শুল্ক ছাড় পাবে।
ওষুধের দাম কমবে:
ইউরোপ অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। এই চুক্তি ভারতে ক্যান্সার এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের জন্য আমদানিকৃত ওষুধের দাম কমিয়ে দেবে। এই চুক্তির ফলে ইউরোপ থেকে ভারতে আমদানিকৃত চিকিৎসা সরঞ্জামের দামও কমবে। এই চুক্তির জেরে, ভারতে তৈরি ওষুধ ২৭টি ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ করা যাবে।
ইলেকট্রনিক এবং উচ্চ-প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি:
এই বাণিজ্য চুক্তি ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত বিমানের যন্ত্রাংশ, মোবাইল ফোন এবং উচ্চ-প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করবে। ভারতে গ্যাজেট তৈরির খরচ কমবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের উপকৃত করবে। এর মানে হল মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে।
ইস্পাত এবং রাসায়নিক পণ্য:
লোহা, ইস্পাত এবং রাসায়নিক পণ্যের উপর শূন্য শুল্কের একটি প্রস্তাব রয়েছে। যা নির্মাণ এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম কমাতে পারে। ফলে যাঁরা বাড়ি তৈরির কথা ভাবছেন তাঁরা উপকৃত হবেন। এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতীয় রপ্তানির জন্য একটি বড় বিজয় এবং এটা ভারতে তৈরি পোশাক, চামড়া এবং গহনার জন্য বিশাল ইউরোপীয় বাজার খুলে দেবে।
