আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যুবতী। সেই ‘অপরাধে’ ঘুমের মধ্যেই ছাত্রীর মুখে অ্যাসিড ছুড়ল তাঁরই এক আত্মীয়। বিহারের মোতিহারি শহরের এই ঘটনায় চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আক্রান্ত যুবতী বর্তমানে শহরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবককে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, মোতিহারির বাসিন্দা ওই যুবতী স্নাতক স্তরের ছাত্রী। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক তাঁর আত্মীয় হয়। বেশ কিছু দিন ধরেই সে যুবতীকে উত্ত্যক্ত করছিল। কিন্তু ওই যুবকের আচরণ পছন্দ না হওয়ায় যুবতী তাকে সরাসরি বারণ করে দেন। এমনকী তার নম্বরটিও ফোন থেকে ব্লক করে দিয়েছিলেন তিনি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই যুবক।

তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই বদলা নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল সে। সম্প্রতি এক রাতে যুবতী যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই তাঁর ওপর হামলা চালায় অভিযুক্ত।

অ্যাসিডের পোড়া যন্ত্রণায় জ্ঞান হারান যুবতী। ঘটনার পরেই গা-ঢাকা দিয়েছিল ওই যুবক। তবে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তল্লাশি চালিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে পাকড়াও করে। পুলিশি জেরায় ধৃত যুবক জানিয়েছে, কথা বলা বন্ধ করে দেওয়ার রাগ থেকেই সে এই জঘন্য কাজ করেছে। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

অন্যদিকে, গত শনিবারের ঘটনা। দেখে মনে হয়েছিল, অবসাদ থেকে চরম পথ বেছে নিয়েছেন যুবতী। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ঘটনায় এল নাটকীয় মোড়। পুলিশ জানাল, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা খুন। অভিযোগে মঙ্গলবার বৈশাখ (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক সম্পর্কে ওই যুবতীর আত্মীয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, বৈশাখের সঙ্গে ২৬ বছর বয়সি যুবতীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। জানা গিয়েছে, যুবতী বিয়ের জন্য চাপ দিতেন। দিনের পর দিন জেদ করায় তাঁকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে বৈশাখ। গত ২৪ জানুয়ারি নিজের একটি কারখানায় যুবতীকে ডাকে অভিযুক্ত। জানা গিয়েছে, এরপর তাঁকে বোঝানো হয়, লোকলজ্জার ভয়ে তারা দু’জনেই একসঙ্গে আত্মঘাতী হবে।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, খুনের ছক করতে দু’টি ফাঁসির দড়িও টাঙিয়েছিল বৈশাখ। অন্ধ বিশ্বাসের জেরে যুবতী গলায় ফাঁস দিতেই তাঁর পায়ের নিচ থেকে টুল সরিয়ে দেয় অভিযুক্ত। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজের স্ত্রীকে ডেকে এনে বৈশাখ দাবি করে, সে এসে যুবতীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছে। এমনকী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সে যুবতীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাটকও করে।

তবে ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। অভিযোগ, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এবং নিচে নামানোর পরেও ওই যুবতীকে যৌন নির্যাতন করে বৈশাখ।

প্রমাণ লোপাটের জন্য ওই রাতে কারখানার সিসিটিভি হার্ড ড্রাইভটিও নষ্ট করার ফন্দি ছিল তার। কিন্তু তার বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় পুলিশ আগেই কারখানাটি সিল করে দেয়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসতেই ভেঙে পড়ে বৈশাখ। জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে সে। পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যই এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।