আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'চিকেনস নেক', কৌশলগত ভাবে ভারতীয় মূল ভূখণ্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২২ কিমি দৈর্ঘ্যের এই অংশই উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যেকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। এই অংশেই নজর চীনের। ঢাকার আতসকাঁচেও 'চিনেকস নেক'| চলতি বছরই 'চিকেনস নেক' নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান। এরপরই শিলিগুড়ি করিডোর শক্তিশালী করতে ওই এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ভারত। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিকেও জোরালো বার্তা দিল নয়াদিল্লি।
বিহারের কিষানগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এবং অসমের ধুবড়ি- এই তিনটি জায়গায় নতুন ব্যাটেলিয়ান অফিস বা ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবেন বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা অভেদ্য করে তুলতে এই তিন মিলিটারি বেসে প্যারা স্পেশাল ফোর্স, গোয়েন্দা ইউনিট ও আরডিএফ বাহিনী মোতায়েন করছে সেনা।
উল্লেখ্য, 'চিকেন'স নেক' করিডর থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২-২৪০ কিলোমিটার, চোপড়া থেকে দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জ থেকে দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটারের মধ্যে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা ক্রমেই পাকিস্তান ও চীনের বিদেশনীতির দিকে ঝুঁকেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনতে পরিকল্পনা করছে এবং। ড্রোন তৈরিতে বেজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। এছাড়া বাংলাদেশকে, পাকিস্তান জেএফ-১৭ ব্লক সি থান্ডার জেট বিমান সরবরাহ করেছে।
বাংলাদেশের এই পাক-চীন প্রীতি ভারত সুনজরে দেখছে না। শিলিগুড়ি করিডোর, মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত, এই সংকীর্ণতম অংশই উত্তর-পূর্বের সাড়ে চার কোটিরও বেশি মানুষকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে। তাই প্রতিবেশীদের নজরে থাকা চিকেন'স নেকের প্রতি নজর বা হামলা এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
চোপড়া সামরিক ঘাঁটি বাংলাদেশ সীমন্ত থেকে এক এক কিলোমিটারেরও কম দূরে অবস্থিত। ফলে এখান থেকে প্রতিবেশী দেশটির প্রতি নজরদারি সহজ। এমনকী প্রয়োজনে দ্রুত সেনা-সমরাস্ত্র জোগানের সহয়াক। এই গাঁটি সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ভারসাম্যকে মৌলিকভাবে অনেকটাই বদলে দিচ্ছে।
ভারত রাফাল যুদ্ধবিমান, ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এইশিলিগুড়ি করিডোরে তৈরি সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে, প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিরোধ থেকে সক্রিয় আধিপত্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিলিগুড়ি করিডোর আর কোনও দুর্বলতা নয় বরং একটি সুরক্ষিত কৌশলগত সম্পদ। যা বাংলাদেশের প্রতি ভারতেরব কূটনৈতিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
