আজকাল ওয়েবডেস্ক: তুমুল বিক্ষোভ। উত্তাল সে দেশ। এই পরিস্থিতিতে আগেই নাগরিকদের তেহরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল আমেরিকা। এবার একই পথে হাঁটল ভারতও। বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক, ভারতীয় দূতাবাস বিবৃতি জারি করেছে। তাতে একদিকে যেমন ভারতীয় নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তেমনই নতুন করে ভ্রমণ না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখে ভারত সরকারের জারি করা পরামর্শের ধারাবাহিকতায় এবং ইরানের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমানে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের (ছাত্র, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের) উপলব্ধ পরিবহনের মাধ্যমে ইরান ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সমস্ত ভারতীয় নাগরিক এবং PIOS-এর উচিৎ যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা, বিক্ষোভ বা বিক্ষোভের স্থান এড়িয়ে চলা, ইরানে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং যে কোনও পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা।
ইরানে অবস্থিত সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের তাঁদের ভ্রমণ এবং অভিবাসন নথি, যার মধ্যে পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র রয়েছে, সমস্তকিছু নিজেদের কাছে রাখার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়ে যেকোনও সহায়তার জন্য নাগরিকদের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। ভারতীয় দূতাবাসের জরুরি যোগাযোগের হেল্পলাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল-৯৮৯১২৮১০৯১১৫; +৯৮৯১২৮১০৯১০৯; +৯৮৯১২৮১০৯১০২; +989932179359, ইমেল: cons.tehran@mea.gov.in
ইরানে থাকা এবং ভারতীয় দূতাবাসে নিবন্ধন না করা সকল ভারতীয় নাগরিকদের (https://www.meaers.com/request/home) লিঙ্কে গিয়ে নিবন্ধন করতে বলেছে বিদেশমন্ত্রক। সঙ্গেই জানানো হয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে যদি কোনও ভারতীয় নাগরিক নিবন্ধন করতে না পারেন, তাহলে ভারতে তাদের পরিবারের সদস্যদের তা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
অপর একটি বিবৃতি জারি করে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক যেন নতুন করে এই মুহূর্তে আর ইরান ভ্রমণ না করেন।
এর আগেই, সোমবার আমেরিকা একটি পরামর্শ জারি করে। তাতে সে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, 'এখনই ইরান ছাড়ুন'। তেহরানের মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয় সোমবার। সতর্কবার্তা এবং নির্দেশনায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আমেরিকার নাগরিকরা স্থলপথে কোন দুই দেশ হয়ে আমেরিকা থেকে ফিরবেন ইরানে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রতিবাদ বিক্ষোভ যে কোনও মুহূর্তে যে কোনও আকার নিতে পারে। ফলাফল স্বরূপ গ্রেপ্তারি, জখম হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাস্তা বন্ধ, গণপরিবহন ব্যহত। মোবাইল, ল্যান্ডলাইন, ইন্টারনেট ব্যবহারও নানা জায়গায় পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। ইরান থেকে উড়ানের বিমান হয় পরে চলছে কিংবা বাতিল। আর্মেনিয়া এবং তুরস্কের পথ ধরে ইরান ছেড়ে আসার কথা জানিয়েছে আমেরিকা।
