আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-র প্রধান মোহন ভাগবত শনিবার বলেছেন যে, ভারতে বসবাসকারী প্রত্যেকেই "হিন্দু", এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই শব্দটি কোনও ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে দেশের সভ্যতাগত নীতিকেই প্রতিফলিত করে।

‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, হিন্দু কোনও বিশেষ্য নয়, বরং এটা একটা বিশেষণ -  যা ভারতের সাংস্কৃতিক প্রকৃতিকে বর্ণনা করে। তিনি বলেন, "আপনি যদি ভারতীয় হন, তবে এই প্রকৃতি আপনার মধ্যে সহজাতভাবে বিদ্যমান।" তাঁর দাবি, মুসলমান এবং খ্রিস্টানরা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মোহন ভাগবত বলেন, ভারতের বিশ্ব নেতৃত্ব বাগাড়ম্বর দিয়ে নয়, বরং উদাহরণের মাধ্যমে গঠিত হবে। এরপর তিনি দেশের হিন্দুদের চারটি প্রধান বিভাগের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথম গোষ্ঠীতে তারা অন্তর্ভুক্ত, যারা গর্বের সঙ্গে প্রকাশ্যে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেন। দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে রয়েচেন, যারা নিজেদের হিন্দু বলে স্বীকার করেন কিন্তু এর মধ্যে কোনও অসাধারণ কিছু দেখেন না। তৃতীয় শ্রেণিতে তারা অন্তর্ভুক্ত, যারা কেবল ব্যক্তিগতভাবে তাদের পরিচয় নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। আর চতুর্থ শ্রেণি হলেন যারা হিন্দু পরিচয় ভুলে গিয়েছেন অথবা তাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরএসএস প্রধান ভারতের বিভাজনকে "হিন্দু ভাব" বা হিন্দু অনুভূতির ক্ষয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মোহন ভাগবত বলেন, "ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম যে আমরা সমস্ত ধর্মকে সম্মান করি, কারণ আমরা হিন্দু।" তাঁর মতে, মতপার্থক্য এবং মাঝে মাঝে উত্তেজনা সত্ত্বেও, ভারত তার সভ্যতাগত মূল্যবোধের কারণে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

ভাগবত জোর দিয়ে বলেন যে, হিন্দুত্বকে গ্রহণ করার জন্য কাউকে নিজের বিশ্বাস, ভাষা বা সাংস্কৃতিক প্রথা ত্যাগ করতে হবে না। তাঁর কতায়, "হিন্দুত্ব গ্রহণ করলে আপনি কিছুই হারাবেন না, আপনার ধর্মীয় রীতিনীতিও নয়, আপনার ভাষাও নয়। হিন্দুত্ব হল নিরাপত্তার গ্যারান্টি।"

আরএসএস প্রধানের মতে, মানুষ বিশ্বাস, খাদ্যাভ্যাস বা ভাষার দিক থেকে ভিন্ন হলেও, তারা একটি সমাজ এবং একটি জাতি হিসাবে এক থাকে।
মোহন ভাগবতের কথায়, "আমরা একে হিন্দুত্ব বলি; আপনি একে ভারতীয়তা বলতে পারেন।" তিনি আরও যুক্তি দেন যে "হিন্দু-মুসলিম ঐক্য" শব্দটি বিভ্রান্তিকর, কারণ ঐক্য শব্দটিই বিভাজনকে পূর্বনির্ধারিত করে।

ধারণাভিত্তিক সমালোচনার পরিবর্তে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ভাগবত বলেন, আরএসএসকে প্রচারের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে বোঝা উচিত। তিনি বলেন, “যদি তথ্যের ভিত্তিতে কোনও বিরোধিতা থাকে, আমরা নিজেদের শুধরে নেব। কিন্তু তথ্য জানতে হলে আপনাদের আমাদের কাছে আসতে হবে।”

ভাগবত তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যার মতো সমস্যা প্রতিরোধে পরিবারের মধ্যে আলোচনার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন এবং আত্মসম্মান ও আত্মসচেতনতা জাগিয়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

মুম্বইয়ের ওরলিতে নেহরু সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অভিনেতা সালমান খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই এবং গীতিকার প্রসূন যোশীসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। মোহন ভাগবতের এই বক্তৃতাটি ছিল ‘সংঘ যাত্রার ১০০ বছর: নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম দিনের ভাষণ। এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনের বিবর্তন, সমাজে এর ভূমিকা এবং ভবিষ্যতের জন্য এর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা।