আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত রবিবার সংকটকবলিত বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। জোর গলায় তাঁর ঘোষণা, যদি দেশটির হিন্দু জনসংখ্যা তাদের অধিকারের জন্য রুখে দাঁড়ানোর এবং লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তারা সারা বিশ্বের হিন্দুদের সমর্থন পাবে।
আরএসএস-এর একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে মুম্বইতে এক অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত বলেন, "বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু রয়েছে। যদি তাঁরা সেখানে থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সারা বিশ্বের সমস্ত হিন্দুরা তাঁদের সাহায্য করবে।"
ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের বিরুদ্ধে অত্যাচার, হিংসা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর পর নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এর ফলে বাংলাদেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হলে অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।
এই ডামাডোল, অস্থিরতার মধ্যে, হিংস্র জনতা সারা দেশে সংখ্যালঘুদের নিশানা করেছে, ফলে ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং ছাত্র-সহ বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো রাস্তার বিক্ষোভের সময় চালানো হয়েছিল, যা পরে সংখ্যালঘুদের উপর সংগঠিত হামলায় রূপ নেয়।
আরএসএস প্রধান বলেন, অতীতে সরকারগুলো ভারতের জনসংখ্যার পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি মোকাবিলায় যথেষ্ট পদক্ষেপ করেনি। তিনি এই পরিবর্তনের নেপথ্যে জন্মহার এবং অবৈধ অভিবাসনকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভাগবত বলেন, "আগের সরকার জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে যথেষ্ট কাজ করেনি। জন্মহার এবং অবৈধ অভিবাসন এর কারণ। এখন যেহেতু সরকার কাজ শুরু করেছে, তাই তারা সফল হবে।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে ভারতকে আর দুর্বল করা যাবে না। তিনি যোগ করেন, "ভারতকে এখন আর ভাঙা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবে, তারাই ভেঙে যাবে।"
এছাড়াও ভাগবত সংগঠনের তহবিল সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেন যে, আরএসএস কর্পোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক অর্থের উপর নির্ভর করে না। তিনি বলেন, "আরএসএস-এর তহবিল নিয়ে মানুষের কৌতূহল আছে। আমরা আমাদের কর্মীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করি। যখন আমরা ভ্রমণ করি, তখন খাবার কেনার পরিবর্তে টিফিন চাই। আমরা হোটেলে নয়, কর্মীদের বাড়িতে থাকি।"
সংগঠনের নেতৃত্ব এবং জাতিভেদ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, "আরএসএস কোনও বৈষম্য করে না। যেকোনও জাতের মানুষ আরএসএস প্রধান হতে পারেন। তফসিলি জাতি বা উপজাতি হওয়া কোনও অযোগ্যতা নয় এবং ব্রাহ্মণ হওয়া কোনও যোগ্যতা নয়। আমরা সব জাতির জন্য কাজ করি, যদিও আরএসএস প্রাথমিকভাবে ব্রাহ্মণদের নিয়ে শুরু হয়েছিল।"
মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কাজ প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, সংঘ সংঘাত এড়িয়ে চলে। তাঁর কথায়, "মুসলিম এলাকায় চ্যালেঞ্জগুলো কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে মোকাবিলা করা হয়। তারা হয়তো গালিগালাজ করতে পারে, কিন্তু আমরা কোনও উত্তর দিই না। এভাবে সংঘাত বাড়ে না।"
মোহন ভাগবতের দাবি, "সংঘ কারও বিরুদ্ধে নয়। এই সংগঠন ক্ষমতা চায় না। এর উদ্দেশ্য কেবল সমাজকে একত্রিত করা।" তিনি স্মরণ করেন যে আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার সমাজে ঐক্যের অভাব লক্ষ্য করে ১৯২৫ সালে এই সংগঠনটি শুরু করেছিলেন।
