আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনেকদিন ধরেই কুনজরে দেখত৷ সুযোগ বুঝেই প্রতিবেশী শিশুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল পাষণ্ড৷ বিহারের দরভঙ্গায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিযুক্ত ওই যুবক (২২) নির্যাতিতার প্রতিবেশী বলেই জানা গিয়েছে। রবিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত শনিবার সন্ধ্যাবেলা বাড়ির সামনে খেলার সময় নিখোঁজ হয়ে যায় ওই শিশুটি। অনেক রাত পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিস মেলেনি। শেষে গভীর রাতে একটি পুকুর পাড়ে কুকুরের চিৎকার শুনে সন্দেহ হয় পরিবারের লোকজনের। সেখানে গিয়েই শিশুটির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দরভঙ্গার এসএসপি জগন্নাথ রেড্ডি জানান, "শিশুর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেন্সিক দল ও সাইবার সেল ঘটনার তদন্ত করছে।" ওই দিন শিশুটির সঙ্গে যারা খেলছিল, তাদের বয়ান শুনেই প্রতিবেশী ওই যুবককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে এই নৃশংস ঘটনার জানাজানি হতেই রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দোষীর কঠোর শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়। এক সময় জনরোষ আছড়ে পড়ে পুলিশের ওপর। একটি অটোয় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে পুলিশ। এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে বিজেপি সমর্থিত পুর কাউন্সিলর শাহিদ মেও-র তৃতীয় স্ত্রী খুনের ঘটনায় রহস্যের সমাধান করল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, শাহিদের প্রথম পক্ষের ছেলে সাহিলই তাঁর সৎ মা রুবিনাকে কুপিয়ে খুন করেছে। বাবার তৃতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরেই আক্রোশ থেকে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ওই যুবক।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিনন্দন নগরে নিজের ভাড়াবাড়ির সামনেই আক্রান্ত হন রুবিনা। বাপের বাড়ি থেকে ফিরে অটো থেকে নামার সময় একটি বাইকে চড়ে দুই যুবক এসে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রুবিনার পেট, বুক ও মাথায় একের পর এক ছুরির কোপ বসিয়ে পালিয়ে যায় তারা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে শাহিদ মেও দাবি করেছিলেন যে, তাঁর কোনও শত্রু নেই এবং কেন এই আক্রমণ হল তা তিনি জানেন না।
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, ঘটনার সময় এলাকায় লোডশেডিং থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ করছিল না। তবে আশপাশের অন্যান্য সোর্স ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে সাহিলকে আটক করা হয়। জেরায় সাহিল কবুল করে, বাবার তৃতীয় বিয়ের পর থেকেই সে রুবিনার ওপর প্রচণ্ড চটে ছিল। এই খুনের কাজে সোহেল নামে এক বন্ধু তাকে সাহায্য করেছিল। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শাহিদ ও রুবিনার ব্যক্তিগত জীবনের জটিল টানাপড়েনকে সামনে এনে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, রুবিনার এটি চতুর্থ বিয়ে ছিল। আগের পক্ষের তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে শাহিদও তিনবার বিয়ে করেছেন। প্রথম পক্ষের তিন সন্তানের একজন হল অভিযুক্ত সাহিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টি এস বাঘেল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ ও বাবার নতুন সম্পর্কের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকেই এই খুনের ছক কষা হয়েছিল।
