আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের কাণ্ডে ধুন্ধুমার। বার্ষিক পরীক্ষায় দেরি করে আসায় সামান্য ধমক দিয়েছিলেন শিক্ষিকা। আর তাতেই মেজাজ হারিয়ে তাঁকে সপাটে চড় মারার অভিযোগ উঠল এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। গুজরাটের পঞ্চমহল জেলার এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঠিক কী ঘটেছিল? 

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ জানুয়ারি শেহরা শহরের একটি স্কুলে পরীক্ষা দিতে দেরি করে এসেছিল মহম্মদ খান আনসারি নামে ওই ছাত্র। কেন দেরি হল, শিক্ষিকা তা জানতে চাইলেই সে উদ্ধতভাবে বলে ওঠে, "বাড়িতে কেউ আমায় প্রশ্ন করার সাহস পায় না, আপনি কে?" এর পরেই শিক্ষিকার গালে চড় মেরে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ক্লাস থেকে পালিয়ে যায় সে।

পুরো ঘটনাটি স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনা জানাজানি হতেই নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে এলাকায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে। যদিও শুক্রবার আদালত থেকে জামিন পেয়েছে অভিযুক্ত।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন ছাত্রের বাবা ক্ষমা চাইলেও দিন কয়েক পরে ফের দলবল নিয়ে স্কুলে চড়াও হয় ওই ছাত্র। শিক্ষিকা ওই এলাকায় একা থাকেন জেনে তাঁকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। যদিও ছাত্রটির দাবি, সে ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইতেই ফের স্কুলে গিয়েছিল। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্যদিকে, মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পথেই গ্রেপ্রার 'নতুন' বর। সদ্য বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই উৎসবের আনন্দ বিষাদে পরিণত হল। নতুন বৌকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়ার পথেই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন অক্ষয় কদম। মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলা থেকে শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ডিসেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের একটি হোটেলে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে অক্ষয়ের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৯ ডিসেম্বর বিজেপি নেতা দিবাকর সিংয়ের মালিকানাধীন একটি হোটেলে চড়াও হয় অক্ষয় ও তার দলবল। হোটেলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি কর্মীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের সঙ্গেও অভিযুক্তরা চরম দুর্ব্যবহার করে। এর পরেই অক্ষয়-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তল্লাশি শুরু হয়। অন্য সঙ্গীরা ধরা পড়লেও অক্ষয় এতদিন বেপাত্তা ছিলেন। তাঁকে ধরার বিনিময়ে ২৫ হাজার টাকার নগদ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পুলিশ।

পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, অক্ষয় যে মহারাষ্ট্রে লুকিয়ে আছেন, সেই খবর তাঁদের কাছে আগে থেকেই ছিল। সেই মতো উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি দল ওখানে ঘাঁটি গেড়ে বসে। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার অক্ষয়ের বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ওই বিয়ের আসরে হানা দিলেও সে যাত্রায় পালিয়ে বাঁচেন অক্ষয়।

অবশেষে শনিবার সকালে যখন অক্ষয় তাঁর নববধূর হাত ধরে মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে শাহজাহানপুরে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।