আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর্থিক সঙ্কটের মাঝে বড় পদক্ষেপ হিমাচল সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিধায়ক ও আমলাদের বেতনের একাংশ কেটে নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু শনিবারই এই ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর বেতনের ৫০ শতাংশ কাটা হবে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য়ান্য মন্ত্রীদের বেতনের ৩০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। অন্যদিকে- বিধায়ক, চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত উপদেষ্টাদের বেতনের ২০ শতাংশ কাটা হবে। এই পদক্ষেপটি ঊর্ধ্বতন আমলাতন্ত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। মুখ্যসচিব, ডিজিপি, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, এডিজিপি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব এবং ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের মতো শীর্ষস্থানীয় আমলাদের বেতনের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ স্থগিত কার্যকর করা হবে।
সচিব, বিভাগীয় প্রধান, আইজিপি, ডিআইজি , এসএসপি, এসপি এবং অন্যান্য বন কর্মকর্তাদের বেতনের ২০ শতাংশ কাটা হবে। 'গ্রুপ-এ' এবং 'গ্রুপ-বি' কর্মীদের বেতনের ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য ৩ শতাংশ কেটে নেওয়া কার্যকর হবে। তবে 'গ্রুপ-সি' এবং 'গ্রুপ-ডি' পর্যায়ের কর্মীদের এই সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
বিচার বিভাগের সাংবিধানিক স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেও, রাজ্য সরকার হাইকোর্টকে স্বেচ্ছায় ছয় মাসের জন্য বেতনের একাংশ স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রস্তাবে জেলা ও অতিরিক্ত জেলা বিচারপতিদের বেতনের ২০ শতাংশ, 'গ্রুপ-এ' ও 'গ্রুপ-বি' পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতনের ৩ শতাংশ এবং হাইকোর্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
নিজের চতুর্থ বাজেটে, মুখ্যমন্ত্রী সুখু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মোট ৫৪,৯২৮ কোটি টাকার ব্যয়ের প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই অঙ্কটি গত অর্থবছরের তুলনায় ৩,৫৬৮ কোটি টাকা কম। যার প্রধান কারণ হল 'রাজস্ব ঘাটতি অনুদান'এর প্রাপ্যতা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাজ্যের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা।
রাজস্ব ঘাটতি অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সুখু বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বছরে গড়ে ৮,১০৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এর ফলে, আসন্ন অর্থবছরে রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ৬,৫৭৭ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে মনে করা হয়েছে।
সরকার দুধ সংগ্রহের মূল্য বৃদ্ধি করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গরুর দুধের দাম প্রতি লিটারে ৫১ টাকা থেকে বেড়ে ৬১ টাকা হবে, অন্যদিকে- মহিষের দুধের দাম প্রতি লিটারে ৬১ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ টাকা হবে।
হলুদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রতি কেজিতে ৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয়েছে এবং আদা-কে এই প্রথমবার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতাভুক্ত করে প্রতি কেজির দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
