আজকাল ওয়েডেস্ক: নতুন অর্থবর্ষ শুরু হচ্ছে পয়লা এপ্রিল থেকে। এই দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এটিএম ব্যবহারের নতুন নিয়ম চালু করবে। এই পরিবর্তনের ফলে প্রভাব পড়বে ক্যাশ তোলার সীমা, লেনদেনের চার্জ। পাশাপাশি ইউপিআই দিয়ে টাকা তোলার পদ্ধতিতেও প্রভাব পড়বে। ভারতের কয়েকটি বড় ব্যাঙ্ক এই নিয়ম চালু করছে। এর মধ্যে রয়েছে এইচডিএফআই ব্যাঙ্ক এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। 

 

এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে এক বড় পরিবর্তনের কথা। এখন থেকে ইউপিআই ব্যবহার করে এটিএম থেকে টাকা তুললেও সেটি মাসিক ফ্রি ট্রানজ্যাকশনের মধ্যেই গণনা হবে। আগে এই ধরনের টাকা তোলার মতো বিষয়কে আলাদা ক্যাটাগরিতে ফেলা হত। এখন আর আলাদা থাকবে না। 

 

মানে, যদি ইউপিআই এর মাধ্যমে এটিএম থেকে টাকা তোলা হয়, তাহলেও ফ্রি ট্র্যানজ্যাকশন কমে যাবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ট্র্যানজ্যাকশন লিমিটের মধ্যেই ব্যাঙ্ক থেকেও টাকা তোলা বা ইউপিআই থেকে টাকা পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে ট্র্যানজ্যাকশন করতে চাইলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।  

 

গ্রাহকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফ্রি লিমিট আছে। সাধারণত এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের এটিএমে

মাসে ৫ বার বিনামূল্যে টাকা তোলা যায়। অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করলে মেট্রো শহরে ৩টি ফ্রি ট্রানজ্যাকশন পাওয়া যায়। নন-মেট্রো এলাকায় ৫টি ফ্রি ট্রানজ্যাকশন পাওয়া যায়। যদি এই সীমা পেরিয়ে যায়, তাহলে প্রতি ট্রানজ্যাকশনে ২৩ টাকা চার্জ লাগবে। এর সঙ্গে আলাদা করে ট্যাক্সও যোগ হবে। 

 

এদিকে পিএনবি কিছু ডেবিট কার্ডে নতুন ক্যাশ তোলার সীমা ঠিক করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০,০০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত তোলা যাবে। এই সীমা নির্ভর করবে কার্ডের ধরনের উপর। আগে কিছু কার্ডে একদিনে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তোলা যেত। এখন সেই সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

 

ব্যাঙ্কের মতে, এটি করা হয়েছে ব্যবহারকে স্ট্যান্ডার্ড করতে। এবং ঝুঁকি কমানোর জন্য। আরও একটি নতুন পরিষেবা চালু করেছে জিও পেটিএম ব্যাঙ্ক। এখন এই পরিষেবার মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা তোলা যাবে। এই পদ্ধতিতে গ্রাহক ইউপিআই কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। তারপর ইউপিআই অ্যাপ দিয়ে ট্র্যানজ্যাকশন অনুমোদন করবেন। এরপর নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কিং করেসপন্ডেন্টের কাছ থেকে টাকা পাওয়া যাবে। 

 

এই পরিবর্তনগুলো দেখাচ্ছে যে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ডিজিটাল দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে নগদ টাকার ব্যবহারেও কিছু নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে। গ্রাহকদের নিজেদের ব্যাঙ্কের নিয়ম ভাল করে দেখে নেওয়া উচিত। নিজের কার্ডের লিমিট জানা দরকার। এবং মাসে কতবার ট্র্যানজ্যাকশন করছেন, সেটাও নজরে রাখা দরকার। না হলে অতিরিক্ত চার্জ বা অর্থ দিতে হতে পারে।