আজকাল ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা মঙ্গলবার হরিয়ানায় ক্রমবর্ধমান মাদক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে “ভয়াবহ ও অপ্রতিরোধ্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, মাদকাসক্তির এই বিপজ্জনক বিস্তার এখন আর শহরকেন্দ্রিক কোনও সমস্যা নয়- গ্রাম, মফঃস্বল, এমনকি আবাসিক কলোনিগুলিতেও তা গভীরভাবে ঢুকে পড়েছে, যার ফলে এক প্রজন্মের যুবসমাজ চরম বিপদের মুখে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সুরজেওয়ালা দাবি করেন, নীরবে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে হরিয়ানার সামাজিক কাঠামোর ভেতরে ঢুকে পড়েছে মাদক। তাঁর ভাষায়, এটি আর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নয়, বরং এক ব্যাপক জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে বহু গ্রামে বয়স্ক মানুষদের বাধ্য হয়ে হাতে-লেখা নথিতে মাদকাসক্তিতে মারা যাওয়া তরুণদের নাম লিখতে করতে হচ্ছে, যা পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার এক মর্মান্তিক উদাহরণ।
এই মৃত্যুগুলি নিছক পরিসংখ্যান নয় বলে জোর দিয়ে বলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারের ধ্বংস, স্বপ্নের অবসান এবং আশা-আকাঙ্খার ক্ষয়কে প্রতিফলিত করে। সুরজেওয়ালা অভিযোগ করেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। বহু গ্রামকে কাগজে-কলমে “মাদকমুক্ত” ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে সেখানে আসক্তি অব্যাহত রয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান মূলত কাগজ-কলম, স্লোগান আর প্রচারমূলক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সুরজেওয়ালা আরও অভিযোগ করেন, হরিয়ানা জুড়ে শক্তিশালী মাদক মাফিয়ারা গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। এই চক্রগুলি সুসংগঠিত সরবরাহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিন্থেটিক মাদক থেকে শুরু করে অপব্যবহৃত ওষুধ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি জেলা ও গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক উদাসীনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই এই চক্রগুলিকে নির্ভয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।
রাজ্য সরকারের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে সুরজেওয়ালা বলেন, সরকারি নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এর ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ, ধ্বংস হচ্ছে পরিবার, আর হরিয়ানার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ, কঠোর আইনপ্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলার দাবি জানান।
সুরজেওয়ালার এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মাদক প্রশ্নে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
