নিতাই দে, আগরতলা: টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ত্রিপুরা-র প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সাংস্কৃতিক চর্চার সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে স্মরণীয় করে তুলতে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে এদিন সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকারের অধীন নর্থ ইস্ট জোন কালচারাল সেন্টার (এন.ই.জেড.সি.সি.), ডিমাপুর-এর সহযোগিতায় আয়োজিত চিত্রাঙ্কন কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চেতনার বিকাশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর অধ্যাপক সত্যম রায় চৌধুরীর ভাবনাকে সামনে রেখেই এই বহুমাত্রিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের মৎস্য, এ.আর.ডি.ডি. ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় এবং পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত তথা ত্রিপুরা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণ উদয় সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিআইজি কলকাতার সি.ও.ও. অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং টি.আই.জি. ইউনিভার্সিটিজ-এর প্রো-চ্যান্সেলর অধ্যাপক (ড.) ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়।
‘গ্রো ইয়োর ওন প্ল্যান্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ করে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৈরি পোস্টার ও মডেল প্রদর্শনী এবং ‘রবীন্দ্রনাথ-ও-ত্রিপুরা’ ও ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক শিল্প প্রদর্শনী বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। প্রদর্শনীতে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।
স্বাগত ভাষণে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ত্রিপুরার উপাচার্য অধ্যাপক ড, রতন কুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, গবেষণার মানসিকতা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় নিরন্তর কাজ করে চলেছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে উদ্ভাবন, সংস্কৃতি এবং সমাজ গঠনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। টি.আই.ইউ.টি. সেই দিকেই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।"
অন্যদিকে কল্যাণী রায় শিক্ষার সঙ্গে সাংস্কৃতিক সচেতনতার সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, “শিল্প, সাহিত্য ও সমাজমুখী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই প্রকৃত সামগ্রিক শিক্ষার পরিচয় বহন করে।"
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউজলেটার “টি.আই.ইউ.টি. টাইমস”-এর প্রকাশ এবং টি.আই.ইউ.টি. স্যাটেলাইট ভিলেজ উদ্যোগের সূচনা। দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত পরিবেশন এবং শিক্ষার্থীদের নানা পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্র ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কর্মকাণ্ডে কৃতিত্ব অর্জনকারী পড়ুয়াদের শংসাপত্র ও পুরস্কার প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক সমন্বিত বার্তা তুলে ধরে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ত্রিপুরা। গবেষণা, শিল্পচর্চা, শিক্ষার্থী বিকাশ এবং সমাজমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় যে অঙ্গীকারবদ্ধ, প্রতিষ্ঠা দিবসের এই আয়োজন তারই প্রতিফলন বলে মত বিশিষ্টজনদের।
একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পাঠ্যক্রমে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলছে। প্রতিষ্ঠা দিবসকে কেন্দ্র করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নেশা বিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতেও বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়, কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের নেশার মতো ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নেশার কবলে পড়ে বহু যুবকের জীবন কীভাবে ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানান, একটি সুস্থ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নেশামুক্ত ক্যাম্পাস তৈরিতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের নেশা থেকে দূরে রাখতে এবং তাদের সচেতন করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় সতর্ক নজর রাখছে বলেও জানানো হয়।















