আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম এবং দশম শ্রেণীর ভাষানীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। বোর্ডের তরফে এ নিয়ে জারি করা হয়েছে নির্দেশিকা। বোর্ড জানিয়েছে, ২০২০-এর জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ২০২৩-এর 'ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন' নির্দেশিকা মেনেই এই ভাষানীতি তৈরি করা হয়েছে। 

 

নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম এবং দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। বোর্ডের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা হতে হবে ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষা। এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে বোর্ড অধীনস্থ সমস্ত স্কুলেই।

 

সিবিএসই-র সংশোধিত ভাষানীতি অনুযায়ী, পাঠ্যক্রমে মাতৃভাষা সহ দু'টি ভারতীয় ভাষা রাখা বাধ্যতামূলক। এর পর কোনও পড়ুয়া ইংরেজি পড়তে চাইলে, তা তৃতীয় ভাষা হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। ফরাসি বা জার্মানির মতো বিদেশি ভাষা পড়তে চাইলে, সেটি অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া যাবে।

 

নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা। তবে গত এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ক্লাস। তাই বোর্ড জানিয়েছে, এই নীতি কার্যকর করার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এনসিইআরটি-র নবম ও দশম শ্রেণীর সদ্য প্রকাশিত সিলেবাস পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

বোর্ড আরও জানিয়েছে, তৃতীয় ভাষার পাঠ্যবই প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত, চলতি শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণীর পড়ুয়ারা তাদের পছন্দের ভাষার ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণীর ভাষাভিত্তিক পাঠ্যবই ব্যবহার করতে পারবে। যেহেতু উচ্চ প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের ভাষাভিত্তিক বইয়ের পাঠ্যক্রমে বেশ অনেকটাই মিল থাকে, তাই পড়ুয়া ওই বই ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি স্কুলগুলিকে ওই বই ছাড়াও স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে আঞ্চলিক কবিতা, ছোটগল্প ও উপন্যাস পড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত অতিরিক্ত পাঠ্যসামগ্রী নির্বাচন ও ব্যবহারের বিস্তারিত নির্দেশিকা আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে ১৯টি তপশিলি ভাষার ষষ্ঠ শ্রেণীর তৃতীয় ভাষার পাঠ্যবইও স্কুলগুলির কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়ছে সিবিএসই।

 

এ দিকে হঠাৎ এই ভাষানীতি চালুর ফলে অনেক স্কুলেই আঞ্চলিক ভাষার যোগ্য শিক্ষক পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বলে জানিয়েছে বোর্ড। তাই এ কথা মাথায় রেখে স্কুলগুলিকে বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেমন— পার্শ্ববর্তী স্কুলের শিক্ষকদের সাহায্য নেওয়া, হাইব্রিড (অনলাইন ও অফলাইন) বা অনলাইন ক্লাস করানো, অবসরপ্রাপ্ত ভাষা শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ বা যোগ্যতাসম্পন্ন স্নাতকোত্তর ব্যক্তিদের স্কুলে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা।