আজকাল ওয়েবডেস্ক: জ্বালানি সংকটের গুজব এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় ওড়িশা জুড়ে হু হু করে বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেল কেনার ধুম। আচমকা তৈরি হওয়া এই 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কের কেনাকাটার জেরে গত তিন দিনে রাজ্যে জ্বালানির চাহিদা একধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং উত্কল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় লাথ। তিনি জানান, ওড়িশায় স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪,০০০ কিলোলিটার পেট্রোল এবং ৮,৬০০ কিলোলিটার ডিজেলের চাহিদা থাকে। কিন্তু গুজবের জেরে গত তিন দিনে এই চাহিদা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, রাজ্যের সমস্ত পেট্রোল পাম্প সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড), যার ফলে তেল সংস্থাগুলো রিয়েল-টাইমে বা সরাসরি কোন পাম্পে কত স্টক রয়েছে তা নজরদারি করতে পারে। রাজ্যের চারটি প্রধান জ্বালানি ডিপোতেই পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই ডিপো থেকে পাম্পগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলেই এই কৃত্রিম সংকট কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অন্যদিকে, ওড়িশা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে রাজ্যে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। খাদ্য সরবরাহ ও ক্রেতা কল্যাণ দপ্তরের সচিব সঞ্জয় কুমার সিং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, রাজ্যে প্রায় ২,৮৫০টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে এবং এর মধ্যে মাত্র এক শতাংশেরও কম পাম্পে সাময়িক তেলের ঘাটতি দেখা গেছে। রাজ্যজুড়ে মাত্র ২০ থেকে ২২টি পাম্পে পেট্রোল বা ডিজেল সাময়িকভাবে শেষ হওয়ার খবর এসেছে। তাই রাজ্যে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে— এই দাবি একেবারেই সঠিক নয়। তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে।
সরকারি তত্পরতার কথা উল্লেখ করে সচিব আরও জানান, তাদের দপ্তর প্রতিদিন রাজ্যজুড়ে জ্বালানি মজুতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। রিটেল আউটলেট বা খুচরো পাম্পগুলোতে পেট্রোল-ডিজেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত তদারকি করা হচ্ছে। জ্বালানির মসৃণ সরবরাহ ও বন্টন বজায় রাখতে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে দপ্তর। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং যেখানেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ 'ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম' বা সংকট মোকাবিলা দল গঠন করা হয়েছে। রাজ্যবাসীর প্রতি প্রশাসনের আর্জি, তারা যেন কোনও ধরনের গুজবে কান না দেন এবং জ্বালানি সংকটের খবর নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হন।















