আগুন লাগতেই থাইল্যান্ড পালিয়ে গিয়েছিলেন মালিক! রোমিও লেনের নাইটক্লাবের মালিকের দ্বিতীয় হোটেল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

Goa Night club fire Update
ছবি: সংগৃহীত।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: নর্থ গোয়ার পানাজি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরপোরা গ্রামে বার্চ বাই রোমিও লেন নাইটক্লাব। শতাধিক পর্যটক, কর্মীরা ছিলেন। হুল্লোড়-উচ্ছ্বাসের মাঝেই রবিবার রাতে আগুন লাগে সেখানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত একটা নাগাদ দাউদাউ আগুন ছড়িয়ে পড়ে ডান্স ফ্লোরে। বেশিরভাগ পালিয়ে যান কোনও মতে। পালাতে গিয়েও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কারণ, নাইটক্লাবের এক্সিট গেটের পথ অত্যন্ত সরু। যেখান থেকে তাড়াহুড়োতে পালিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। অন্যদিকে কয়েকজন পর্যটক ও কর্মীরা পালাতে না পেরে নাইটক্লাবের বেসমেন্টে ঠাঁই নেন। সেখানেই দমবন্ধ হয়ে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরপোরা নদীর পিছনেই ছিল এই নাইটক্লাব। এন্ট্রি ও এক্সিটের পথ ছিল সরু। মূল সড়কের পাশে সরু রাস্তা দিয়ে পৌঁছনো যেত এই 'আইল্যান্ড ক্লাব'-এ। দমকলের ইঞ্জিন নাইটক্লাব পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। ৪০০ মিটার দূরে দাঁড়িয়েই দমকলের একাধিক ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ওই বেসমেন্ট থেকে ২৫ জনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। রোমিও লেনের বার্চের মালিক সৌরভ লুথরা তার উত্তর গোয়ার নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পলাতক ছিলেন। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, নাইটক্লাবে আগুন লাগার পরেই ইন্ডিগোর বিমান ধরে থাইল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন মালিক সৌরভ লুথরা। ওই নাইটক্লাবের দুই মালিক, সৌরভ এবং গৌরব লুথরা। গোয়া পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময়, নয়া দিল্লি-ফুকেট বিমানে পালিয়ে যান।

এর আগে, সোমবার, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছিলেন সৌরভ। তাতে তিনি লেখেন,  'বার্চে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার ফলে প্রাণহানির ঘটনায় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং গভীরভাবে মর্মাহত।অপূরণীয় ক্ষতি এবং দুর্দশার এই মুহূর্তে, কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবার এবং আহতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরও নিশ্চিত করছে যে, শোকাহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যখন এই চরম যন্ত্রণা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তখন তাঁদের সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।'

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছেন, রোমিও লেনের ওই নাইটক্লাবের মালিকের অপর আর একটি হোটেল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার।

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ড. প্রমোদ সাওয়ান্ত সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে আগেই জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গিয়েছে, নাইটক্লাবের ড্রান্স ফ্লোরের ভিতরেই বৈদ্যুতিক আতশবাজি পোড়ানো হয়েছিল৷ তার জেরেই ক্লাবটিতে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নাইটক্লাবের প্রধান পরিচালক রাজীব মোদক, পরিচালক বিবেক সিং, বার ম্যানেজার রাজীব সিংহানিয়া এবং গেট ম্যানেজার রিয়াংশু ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷

আরও জানা গিয়েছে, নাইটক্লাবে মৃতদের মধ্যে ২০ জন কর্মী ছিলেন এবং পাঁচজন পর্যটক ছিলেন। মৃত কর্মীরা মূলত উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড, অসম, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে চারজন নেপালি নাগরিক ছিলেন।