আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইনস্টাগ্রামে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। দেখা করতে গিয়েই সর্বনাশ হল এক কিশোরীর। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিক ও বন্ধুদের বিরুদ্ধে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রামে এক তরুণের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল কিশোরীর। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ওই তরুণ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেখা করেই কিশোরীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে ওই তরুণের বিরুদ্ধে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রেললাইনের উপর থেকে পাঁচদিন আগে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, অংশু, গৌতম, আশিক, বৈভব, রিষভ। ইনস্টাগ্রামে অংশুর সঙ্গে ওই কিশোরীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল।
মৃতার মা পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ফোনে কিশোরীর সঙ্গে কথা বলতেন অংশু। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেখা করতে চেয়েছিলেন ওই তরুণ। যার জেরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কিশোরী। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। অভিযোগ দায়ের হতেই কিশোরীর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। পাশাপাশি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করাও শুরু হয়।
দীর্ঘ পুলিশি জেরায় অংশু জানিয়েছেন, ঝামেলার জেরেই কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন তিনি ও তাঁর বন্ধুরা। এরপর দেহটি রেললাইনের ধারে ফেলে রাখেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। নবম শ্রেণির ছাত্রী, এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। ধর্ষণের পর অপমানে, লজ্জায়, আতঙ্কে নিজেকেই শেষ করে ওই নাবালিকা। ধর্ষণের পর আত্মঘাতী হয় সে। জানা গেছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী ওই নাবালিকার প্রতিবেশী ছিলেন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল সোমবার সাঙ্গিপুর থানার অন্তর্গত এক এলাকায়। ১৪ বছর বয়সি নাবালিকা গতকাল আত্মঘাতী হয়। প্রতিবেশী তরুণ, এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিল নাবালিকার পরিবার।
পুলিশ আধিকারিক সঞ্জয় রাই জানিয়েছেন, নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওই পুলিশ কর্মী। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। নাবালিকা তাতেই বাধা দেয়। শেষমেশ নাবালিকাকে ধর্ষণ করেন ওই পুলিশ কর্মী। ধর্ষণের বিষয়টি প্রথমে বাড়িতে কাউকে জানাননি ভয়ে। সোমবারেই বিষয়টি সে ফাঁস করে। এরপর নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হয় নাবালিকা।
নাবালিকার পরিবারের তরফে ইতিমধ্যেই পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত তরুণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বর্তমানে মৌ জেলায় ট্রেনিং নিচ্ছেন ওই পুলিশ কর্মী। পুলিশের একটি টিম সেই জেলা থেকে অভিযুক্তকে আটক করার জন্য রওনা দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।
