আজকাল ওয়েবডেস্ক: মায়ের দেহ আগলে রেখেছিলেন দু’‌দিন। একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন। সামলাতে পারেননি মায়ের মৃত্যুশোক। অবশেষে নিলেন চরম সিদ্ধান্ত। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক জ্যোতিষীর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করার পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে। 


গাজিয়াবাদের এক বহুতল আবাসনে ওই জ্যোতিষী থাকতেন মাকে নিয়ে। ৪২ বছরের রাজবীর বহুতলের ১৩ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় রাজবীরের ৭০ বছর বয়সী মায়ের মৃতদেহ। 


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার মৃতদেহে কোনওরকম আঘাতের চিহ্ন ছিল না। মহিলার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে খুনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ছেলের মৃত্যুর অন্তত দু’‌দিন আগে তিনি মারা গিয়েছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর টানা দু’‌দিন মায়ের মৃতদেহের পাশেই বসেছিল ছেলে।। 

পুলিশ জানিয়েছে, রাজবীর নাকি তাঁর পরিচিতদের বহুবার জানিয়েছিলেন, ‘‌মা মারা গেলে আমিও আর বাঁচব না।’‌ পুলিশের ধারণা, মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন রাজবীর। 


পুলিশের বয়ান অনুযায়ী রাজবীর তাঁর মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। স্ত্রী ও সন্তানরা আলাদা থাকতেন। এদিকে, রাজবীরের স্ত্রীর দাবি, বিচ্ছেদের পরে গত এক বছর ধরে তিনি নাকি স্ত্রীকে সংসার খরচ বাবদ কোনও আর্থিক সহায়তা করতেন না। 

এদিকে আত্মহত্যার ঠিক আগেই, তিনি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে মেসেজে নিজের মোবাইলের লক কোড জানিয়েছিলেন। পুলিশ সেই ফোন পরীক্ষা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। 


জানা গিয়েছে মৃত ব্যক্তি হরিয়ানার এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। এর পাশাপাশি তদন্তে উঠে আসে রাজবীর আর্থিক সঙ্কটে ভুগছিলেন। বাজারে কয়েক লক্ষ টাকা দেনা ছিল তাঁর। ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল সমস্যা। কয়েক বছর আগেই নিজের বাবা ও ভাইকে হারিয়েছিলেন রাজবীর। তাছাড়া প্রাক্তন স্ত্রীর ফের বিয়ে রাজবীরকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিয়েছিল। আর এবার মা মারা যান। পুলিশের অনুমান এই ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি রাজবীর। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাজবীর খুব একটা মিশুকে ছিলেন না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব কম যোগাযোগ রাখতেন।