আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা৷ দুর্ঘটনার জেরে প্রাণ হারালেন অন্তত চার জন। বুধবার উধমপুর জেলার শারদা মাতার কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, দ্রুত গতিতে আসছিল একটি বাস৷ এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে এক মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই ছিল যে, বাইক চালক ও আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এখানেই শেষ নয়। এর ঠিক কিছু সময় পরই ঘাতক বাসটি রাস্তার ধারে আরও দুজনকে পিষে দেয়। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ওই দুই ব্যক্তি একটি পণ্যবাহী গাড়ির নিচে কাজ করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা  দুজনই মেকানিক ছিলেন৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁদেরও।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। এই দুর্ঘটনার জেরে ব্যস্ততম এই জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। এক্ষেত্রে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল নাকি চালকের বেপরোয়া গতির কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্যদিকে, টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে ছিল গাড়ি। আচমকা পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারল একটি বেপরোয়া ট্রাক। শনিবার দুপুরে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে কানপুর হাইওয়ের ওপর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক টোল কর্মী-সহ বেশ কয়েক জন যাত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন। মঠ থানা এলাকার সেমরি টোল প্লাজার এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিউরে উঠছেন সকলে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় টোল প্লাজায় দুটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। ফাসট্যাগ স্ক্যানারে সমস্যা হওয়ায় ৫৬ বছর বয়সি কর্মী রমাকান্ত রিছারিয়া গাড়ি দুটির কাছে এগিয়ে গিয়েছিলেন। এমন সময়ে পিছন থেকে ধেয়ে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি দুটিতে ধাক্কা মারে। ধাক্কার চোটে রমাকান্তবাবু কার্যত শূন্যে ছিটকে গিয়ে একটি গাড়ির সামনের অংশের ওপর পড়েন। এখানেই শেষ নয়, ঘাতক ট্রাকটি গাড়ি দুটি এবং ওই কর্মীকে প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মঠ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ 

আবার, গত মাসেও ঘন কুয়াশার জেরে আরেকটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সকালে ঘন কুয়াশার জেরে দিল্লি-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে অন্তত সাতটি বাস, তিনটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। সজোরে ধাক্কার পরেই গাড়িগুলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভোর ৪:৩০ মিনিটে মথুরার বলদেব এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৩৫ জন আহত হয়েছিলেন। 

এর আগে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ধোঁয়াশার জেরে পরপর কুড়িটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উল্টে যায় একাধিক ট্রাক। এর ফলে দুই পুলিশকর্মী-সহ চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েছিলেন ২০ জন। কুয়াশা ও ধোঁয়াশার জেরে পরপর কয়েকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।