আজকাল ওয়েবডেস্ক: বছরের শুরুতেই বেপরোয়া গতির বলি একের পর এক কলেজ পড়ুয়া। ভয়ঙ্কর পথ দুর্ঘটনায় নিমেষে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন কলেজ পড়ুয়া। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক কলেজ ছাত্রী। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানায়। পুলিশ জানিয়েছে, রাঙ্গা রেড্ডি জেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি গাড়ি গাছে সজোরে ধাক্কা মারে। ইকোস্পোর্টস গাড়িটিতে কলেজ পড়ুয়ারা ছিলেন। দুর্ঘটনায় চার কলেজ পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও এক পড়ুয়া। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ও আহতরা আইসিএফএআই ফাউন্ডেশন ফর হাইয়ার এডুকেশন এবং মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির পড়ুয়া ছিলেন। কলেজ পড়ুয়াদের গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে ছুটছিল। যার জেরেই চেভেল্লার মির্জাগুড়া গেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ডিভাইডারে, পরে গাছে সজোরে ধাক্কা মারে। 

গাছে ধাক্কা দিয়েই গাড়িটি পুরোপুরি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চার কলেজ পড়ুয়ার। মৃতেরা হলেন, কারগায়ালা সুমিথ, শ্রী নিখিল, দেবালা সূর্য তেজা, বালমুরি রোহিত। মৃতেরা সকলের বয়স, ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ বছরের বিবিএ ছাত্রী সুনকারি নক্ষত্র। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হায়দরাবাদে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছয় পুলিশ। মৃত দেহগুলি উদ্ধার করে চেভেল্লার সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, বেপরোয়া গতির জেরেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। 

গতবছর নভেম্বর মাসেই এই জেলায় আরেকটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল তেলেঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলার ছাভেলা মণ্ডলের খানাপুর গেটের কাছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, সরকারি বাসের সঙ্গে ট্রাকের সজোরে সংঘর্ষ ঘটে। সরকারি বাসটিতে ৭২ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতদের মধ্যে ১০ জন মহিলা, আটজন পুরুষ ও এক তিন মাসের শিশুও ছিল। অনেকেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। 

উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিক মহেশ ভাগওয়াত জানিয়েছিলেন, ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে ভুল লেনে ঢুকে পড়েছিল। দ্রুত গতিতে এসে সরকারি বাসে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার জেরে বহু যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারার সম্ভাবনা ছিল। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে তেলেঙ্গানার দুর্ঘটনা ঘিরে শোকপ্রকাশ করেছিলেন। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল। মৃতদের পরিবার পিছু দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন তিনি। 

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি তড়িঘড়ি করে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। দুর্ঘটনাটি ঘিরে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়। পাশাপাশি গান্ধী ও ওসমানিয়া হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি‌।