আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়েবাড়ির আনন্দ নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে। ছত্তিশগড় থেকে ঝাড়খণ্ড আসার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল বরযাত্রীবোঝাই একটি বাস। রবিবার ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার মহুয়াডাঁড় থানা এলাকার ওরসা বাংলাদারা উপত্যকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল। ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত পাঁচজনের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে চারজনই মহিলা। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন যাত্রী।
পুলিশ সূত্রে খবর, বাসটি ছত্তিশগড়ের বলরামপুর থেকে যাত্রী নিয়ে মহুয়াডাঁড়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আসছিল। পাহাড়ি রাস্তায় আচমকাই সেটি উল্টে যায়। লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানান, দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। জেলা প্রশাসনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আহতদের চিকিৎসায় কোনও খামতি না থাকে।
এদিকে বাসের চালক বিকাশ পাঠকের দাবি, মাঝপথে গাড়িটির ব্রেক ফেল করেছিল। তিনি বলেন, "বাসে প্রায় ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। ব্রেক কাজ না করায় আমি হ্যান্ডব্রেক টেনে এবং ইঞ্জিন বন্ধ করে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।"
অন্যদিকে, চারিদিকে ঘন কুয়াশা। এর জেরেই ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রবিবার সকালে উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে দিল্লি-লখনউ জাতীয় সড়কে কুয়াশার কবলে পড়ে চরম বিপত্তি। ঘটনাস্থলে অন্তত ২০টি গাড়ির পরপর সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে, একইসঙ্গে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৪ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল। গোরক্ষপুর থেকে মিরাটগামী একটি সরকারি বাস একটি ট্রাককে সজোরে ধাক্কা মারে। সেই রেশ ধরেই পিছন থেকে আসা একের পর এক গাড়ি পরস্পরের গায়ে আছড়ে পড়ে। দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে তিনটি সরকারি বাস এবং বেশ কিছু ছোট গাড়ি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক ও বেশ কিছু গাড়ি রাস্তা থেকে নিচে ছিটকে পড়ে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম রাহুল (৩৫)। তিনি ওই সরকারি বাসের সহ-চালক ছিলেন। বাসের চালক আতর সিং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
রবিবার সকালে এই দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আধ ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ফের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গাজরাওলা থানার অন্তর্গত শাহওয়াজপুর দোর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দৃশ্যমানতা প্রায় তলানিতে থাকার কারণে ৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পরপর ১০টি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এর জেরে ১২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছয়। আহতদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে দৃশ্যমানতা এত কম ছিল, সামনের কোনও গাড়িই দেখা যাচ্ছিল না। এর জেরে পরপর ১০টি গাড়ির ধাক্কা লাগে সজোরে। দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ ছিল। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলি সরানোর পর, যান চলাচল ফের শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, গত মাসে ঘন কুয়াশার জেরে আরেকটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সকালে ঘন কুয়াশার জেরে দিল্লি-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে অন্তত সাতটি বাস, তিনটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। সজোরে ধাক্কার পরেই গাড়িগুলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভোর ৪:৩০ মিনিটে মথুরার বলদেব এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৩৫ জন আহত হয়েছিলেন।
এর আগে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ধোঁয়াশার জেরে পরপর কুড়িটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উল্টে যায় একাধিক ট্রাক। এর ফলে দুই পুলিশকর্মী-সহ চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েছিলেন ২০ জন। কুয়াশা ও ধোঁয়াশার জেরে পরপর কয়েকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
