আজকাল ওয়েবডেস্ক: শরীরে বুলেট নিয়ে কেটে গিয়েছে কুড়িটি বছর। টেরই পাননি ফরিদাবাদের গৃহবধূ। দিব্যি সুস্থ শরীরে সংসার করেছেন, বিয়ে হয়েছে, এখন তিনি চার সন্তানের মা। অবশেষে দুই দশক পর পিঠের নিচে জমে থাকা মাংসপিণ্ড থেকে নিজেই বেরিয়ে এল সেই বন্দুকের গুলি। অবিশ্বাস্য এই ঘটনায় তাজ্জব চিকিৎসকমহল।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০০৫ সালের। মানেসরের কোটা খাণ্ডেলওয়াল গ্রামের বাসিন্দা কবিতা তখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই পিঠের নিচের দিকে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন তিনি। দেখেন রক্তে ভিজে পোশাক। কবিতার কথায়, "ভেবেছিলাম কেউ পাথর ছুড়েছে।"

এমনকী শিক্ষকরাও বিশেষ গুরুত্ব দেননি। পরে বাড়ি ফিরলে মা-বাবা ক্ষতস্থানে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তেল-হলুদ লাগিয়ে দেন। কয়েক দিনেই ঘা শুকিয়ে যাওয়ায় সবাই বিষয়টি ভুলেই গিয়েছিলেন। কিন্তু ওই কিশোরীর শরীরে গুলি ঢুকল কী করে? কবিতার দাবি, গ্রামের কাছেই একটি সেনাশিবির ছিল। সেখানে নিয়মিত গুলির লড়াইয়ের মহড়া চলত। প্রায়ই লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি ছিটকে আসত গ্রামে। তেমনই কোনও একটি ‘স্ট্রে বুলেট’ সে দিন বিঁধেছিল তাঁর পিঠে।

কুড়ি বছর পর গত ৩ জানুয়ারি এক অদ্ভুত উপায়ে সেই রহস্যের সমাধান হয়। সম্প্রতি মাস দুয়েক ধরে পিঠের ওই অংশে একটি ফোলা ভাব লক্ষ করছিলেন কবিতা। এক প্রতিবেশীর পরামর্শে সেখানে কয়েক দিন পেঁয়াজ বেঁধে রাখেন তিনি। আর তাতেই কাজ হয়। ৩ তারিখ সকালে ওই জায়গায় চাপ দিতেই আচমকা ছিটকে বেরিয়ে আসে একটি  বুলেট।

কিন্তু শরীরে এত বছর গুলি থাকা কি সম্ভব? বাদশা খান সিভিল হাসপাতালের স্নায়ুশল্যবিদ ডাঃ উপেন্দ্র ভরদ্বাজ জানাচ্ছেন, এমনটা হতেই পারে। তাঁর মতে, বুলেট আসলে উত্তপ্ত ধাতুর টুকরো মাত্র, এতে কোনও বিষ থাকে না। শরীরের কোনও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে না বিঁধলে বা সংক্রমণ না ছড়ালে তা আজীবন শরীরের ভেতরে থেকে যেতে পারে। সিনেমায় বুলেটের বিষক্রিয়া নিয়ে যা দেখানো হয়, চিকিৎসকদের মতে তা নেহাতই গালগল্প।