আজকাল ওয়েবডেস্ক: বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার গোটা পরিবারের নিথর দেহ। সকলেই গুলিবিদ্ধ, রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে ছিলেন একটি ঘরের মধ্যে। যোগীরাজ্যে আবারও শিউরে ওঠা দৃশ্য প্রকাশ্যে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাহারানপুরে এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি ঘর থেকেই সকলের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি খুন ও আত্মহত্যার ঘটনা। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃতেরা হলেন, অশোকা, তাঁর স্ত্রী অঞ্জিতা, তাঁর মা বিদ্যাবতী আর দুই নাবালক সন্তান। ওই ঘর থেকেই দু'টা দেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ঘরের মেঝেতে অশোক ও তাঁর স্ত্রীর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে ছিল। অশোকের মা ও দুই সন্তানের গুলিবিদ্ধ দেহ ছিল বিছানার উপর। স্ত্রী, মা ও দুই সন্তানকে গুলি করে খুন করে, অশোক আত্মঘাতী হয়েছেন বলেই পুলিশের ধারণা। 

পারিবারিক ঝামেলা, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক না আর্থিক অনটন, কী কারণে এহেন চরম পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে প্রতিবেশীদের ও আত্মীয়দের। যদিও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই পরিবারে সকলের মধ্যে সদ্ভাব ছিল। কখনও অশান্তি, ঝামেলা টের পাননি কেউ। 

প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃতদেহ। এক দম্পতি ও তাদের তিন খুদে সন্তানের নিথর দেহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। দিল্লির সেই বুরারিকাণ্ডের ছায়া খাস নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গুজরাটের আহমেদাবাদের বাগোদারায়। পুলিশ জানিয়েছিল, মৃতেরা হলেন বিপুল ভাগেলা ও সোনাল ভাগেলা এবং তাঁদের ১১ ও পাঁচ বছরের দুই কন্যাসন্তান ও আট বছরের এক পুত্রসন্তান। রবিবার সকালে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

এদিন সকালে প্রতিবেশীরাই পুলিশে প্রথম খবর দেন‌। ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী, অ্যাম্বুল্যান্স। দুটি ঘর থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পাঁচজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তানকে খুন করে দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছিল। 

এদিকে মৃত দম্পতির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁরা আদতে ঢোলকার বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে বাগোদারায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বিপুল পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। পরিবারে তিনি একাই উপার্জন করতেন। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতেন। আর্থিক অনটনের কারণেই হয়তো চরম পদক্ষেপ করেছেন। 

পরিবারের তরফে আরও জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বিপুল ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন।‌ সেটির ধাঋণ শোধ করতে পারছিলেন না। একদিকে সংসারের চাপ, অন্যদিকে ঋণের বোঝা। সবমিলিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তিন সন্তানকে বড় করে তোলার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর। ঋণের কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান পরিবারের।