আজকাল ওয়েবডেস্ক: জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ একজন তফসিলি উপজাতিভুক্ত কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাতপাত তুলে গালিগালাজ, শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্মীয়ভাবে অপমান করার অভিযোগ এনেছেন।
দিল্লি পুলিশের কাছে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনিক কাগজপত্র-সহ আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী যা বলেছেন-
অভিযোগকারী রাম ফুল মীনা জামিয়ার ইউনিভার্সিটি পলিটেকনিকে একজন আপার ডিভিশন ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত। ২০১৭ সালের ১৭ই জানুয়ারি সরিতা বিহার-সুখদেব বিহারের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া এক অভিযোগে মীনা সহযোগী অধ্যাপক ড. রিয়াজউদ্দিনের বিরুদ্ধে বারবার তাঁকে গালিগালাজ, জাতিপাত তুলে অপমান এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
মীনা বলেছেন যে, ওই শিক্ষক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কিত একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শত্রুতা আরও বেড়ে যায়। তিনি দাবি করেন যে তিনি ওই বিষয়ে মূল অভিযোগকারী ছিলেন না, কিন্তু শীঘ্রই তাঁকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল ১৩ই জানুয়ারি। অভিযোগ, ড. রিয়াজউদ্দিন তাঁর অফিসে প্রবেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। মীনা প্রতিবাদ করলে, ওই শিক্ষক তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে অশ্লীল গালিগালাজ করেন।
হামলা এবং চিকিৎসা:
মীনার পুলিশ অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি ১৬ই জানুয়ারি হিংসার রূপ নেয়। তিনি অভিযোগ করেন যে ড. রিয়াজউদ্দিন আবারও কাজের জায়গায় মুখোমুখি হন, তাঁকে জাতিভিত্তিক গালিগালাজ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে- "মুসলিম প্রতিষ্ঠান"-এর মধ্যে একজন "আদিবাসী" কীভাবে অভিযোগ করার সাহস করতে পারেন। মীনা প্রতিবাদ করলে, ওই শিক্ষক তাঁকে বেশ কয়েকবার লাথি, ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ।, এর জেরে রাম ফুল মীনার ঠোঁট কেটে যায়, রক্ত ঝরতে থাকে এবং বাঁ চোখের নীচও ফুলে যায়।
মীনা জানান, তিনি সেদিনই জামিয়ার আনসারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা করার। অর্গানাইজার জানিয়েছে, তাঁর পুলিশ অভিযোগপত্রের সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সংযুক্ত করা হয়েছে। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি তাঁর অধ্যক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে আরেকটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
বদলি আদেশের নেপথ্যে প্রতিশোধ?
মীনা অভিযোগ করেছেন যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে, প্রশাসন ১৬ই জানুয়ারিই তাঁর বিরুদ্ধে একটি বদলির আদেশ জারি করে। তিনি এই পদক্ষেপকে প্রতিশোধমূলক এবং তাঁর বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল বলে দাবি করেছেন। পুলিশি অভিযোগে মীনা তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর অধীনে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারা অনুসারে একটি এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়েছেন।
'অর্গানাইজার'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীনা আরও অভিযোগ করেন যে, এই ঘটনা ছাড়াও তাঁকে হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি দাবি করেন যে ক্যাম্পাসে তাঁকে বারবার 'কাফির' বলে সম্বোধন করা হতো এবং তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁকে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
