আজকাল ওয়েবডেস্ক: "প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অপরাধী নন।" এটাই ভারতীয় আইনের মূল ভিত্তি। আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত জামিন পাওয়া অভিযুক্তের মৌলিক অধিকার। এমনটাই মনে করেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভালে অংশ নিয়েছিলেন চন্দ্রচূড়। সেখানেই দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদের জামিন না পাওয়া প্রসঙ্গে মুখ খোলেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।

ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় স্পষ্ট বলেন, "কেউ বিচার শুরুর আগেই বছরের পর বছর জেলে কাটালে সেই সময় আর কোনওভাবে ফেরৎ দেওয়া যায় না। তাই জামিন অস্বীকার করা উচিত কেবল তিনটি ক্ষেত্রেই। প্রথমত সমাজ বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর হুমকি থাকলে, দ্বিতীয়ত পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে কিংবা তৃতীয়ত ৩২ প্রমাণ নষ্ট করার সম্ভাবনা থাকলে।"

জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভালে উমর খালিদকে নিয়ে বীর সাংভির এক প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বলেন, "জাতীয় নিরাপত্তার মামলায় আদালতকে আরও সতর্ক ও গভীর বিশ্লেষণ করতে হয়। কিন্তু শুধু 'নিরাপত্তা' শব্দটিকে সামনে রেখে অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা চলতে পারে না। অতিরিক্ত বিচার-পূর্ব আটক সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। দ্রুত বিচারই অধিকার। অন্যথায়, মানুষ বছরের পর বছর জেলে পচে মরে।"

চন্দ্রচূড় বলেন, "ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সমস্যা হলো বিচারকাজ যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে শেষ হয় না। যদি তা হয়, তবে তা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের দ্রুত বিচারের অধিকার লঙ্ঘন করে। এমনকী যদি কোনও আইন জামিন অস্বীকার করে, তবুও সংবিধানই সর্বোচ্চ। তাই, ব্যতিক্রম না থাকলে জামিন মঞ্জুর করা উচিত।"

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে দিল্লি হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি উমর খালিদ। বারে বারেই তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে।

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের কথায়, "আমি আমার নিজের আদালতের সমালোচনা করতে দ্বিধা বোধ করছি, কারণ আমি মাত্র এক বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু এই নীতিগুলো বলে যে, আপনি শর্ত আরোপ করতে পারেন, তবে একটি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি দ্রুত বিচার সম্ভব না হয়, তবে জামিনই হওয়া উচিত নিয়ম, আর কোনও ব্যতিক্রম নয়।" 

চন্দ্রচূড়ের মতে, নিম্ন আদালতগুলিতে জামিন প্রত্যাখ্যানের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে মামলা বাধ্য হয়ে মামলা যাচ্ছে উচ্চ আদালতে। তাঁর কথায়, "বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা রাখতে হলে আইনের নিয়ম মানতেই হবে। জনদাবি বা আবেগ নয়, আদালতের একমাত্র পথ প্রমাণ।"

তাঁর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বকালে সুপ্রিম কোর্ট ২১,০০০-রও বেশি জামিন আবেদন শুনেছে বলে জানান ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়া। তাঁর মতে, বিচার শুরু হওয়ার আগেই আটক রাখাকে 'শাস্তি'তে পরিণত করা উচিত নয়।