আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর দিল্লির ওয়াজ়িরাবাদ এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমে প্রতারণার অভিযোগে এক তরুণী তাঁর প্রেমিকের গোপনাঙ্গ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত যুবকের নাম বিসর্জিত। তিনি উত্তরপ্রদেশের রামপুর জেলার বাসিন্দা এবং নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিতেন, যদিও পুলিশ তাঁকে ‘কোয়্যাক’ বা ভুয়ো ডাক্তার বলে উল্লেখ করেছে। অভিযুক্ত তরুণীর নাম আমিনা খাতুন, যিনি বর্তমানে ওয়াজিরাবাদে থাকেন এবং মূলত বিহারের কাতিহার জেলার বাসিন্দা।

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে বিসর্জিত জানিয়েছেন, গত দুই বছর ধরে তাঁর সঙ্গে আমিনা খাতুনের সম্পর্ক ছিল। তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে এসে আমিনার বাড়িতে উঠেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ২৫ ফেব্রুয়ারির গভীর রাতে আমিনা তাঁকে দুধের সঙ্গে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে দেন। এরপর রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ তিনি আধা অচেতন অবস্থায় থাকতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গোপনাঙ্গে আঘাত করেন। পরে জানা যায়, ওই যুবক বিবাহিত—এই তথ্য জানতে পারার পরই তরুণী ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালান বলে পুলিশ মনে করছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় বিসর্জিত কোনওভাবে নিজেই উত্তর দিল্লির হিন্দু রাও হাসপাতালে পৌঁছন। সেখান থেকে পরে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে। আহত ব্যক্তির বয়ান ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৮(২) ধারা (বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করা) এবং ১২৩ ধারা (নেশাজাতীয় বা বিষাক্ত বস্তু ব্যবহার করে আঘাত) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আমিনা খাতুন বর্তমানে পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।