আবহবিদদের সতর্কবার্তা—বিশ্ব আবারও শক্তিশালী সুপার এল নিনো-র মুখোমুখি হতে পারে। যদি এই আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ২০২৬–২৭ সালে বিশ্বের বহু দেশে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2
9
এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। যখন এই উষ্ণতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়, তখন সেটিকে বলা হয় সুপার এল নিনো। এর প্রভাব শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরণ বদলে দেয়।
3
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত ভারতের গ্রীষ্ম আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে। এর ফলে উত্তর, মধ্য এবং পূর্ব ভারতে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তারও বেশি পৌঁছাতে পারে। শহরাঞ্চলে তাপদাহ আরও বেশি অনুভূত হয়, কারণ কংক্রিট ও যানবাহনের কারণে হিট আইল্যান্ড এফেক্ট তৈরি হয়।
4
9
শুধু গরমই নয়, বর্ষার উপরও বড় প্রভাব পড়তে পারে। ইতিহাস বলছে, শক্তিশালী এল নিনোর বছরে ভারতের বর্ষা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে অনেক রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি বড় উদ্বেগের কারণ। ধান, ডাল ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
5
9
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর প্রভাব আগের তুলনায় আরও তীব্র হয়ে উঠছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আবহাওয়ার চক্রও বদলে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চরম আবহাওয়া—যেমন তীব্র গরম, খরা, বা হঠাৎ ভারী বৃষ্টির ঘটনা—আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
6
9
ভারতের বড় শহরগুলিতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই বা হায়দরাবাদের মতো শহরে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে, কারণ মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের উপর আরও বেশি নির্ভর করবে। পাশাপাশি জল সংকটও তীব্র হতে পারে, কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
7
9
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই—কিন্তু প্রস্তুতি জরুরি। সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে। অনেক শহরে হিট অ্যাকশন প্ল্যান চালু করা হয়েছে, যাতে গরমের সময় মানুষকে সতর্ক করা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হয়।
8
9
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও কিছু সতর্কতা নেওয়া জরুরি। প্রচণ্ড গরমে দুপুরে বাইরে না বেরোনো, পর্যাপ্ত জল পান করা, হালকা পোশাক পরা এবং বয়স্ক ও শিশুদের বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া দরকার।
9
9
সব মিলিয়ে, যদি সুপার এল নিনো সত্যিই তৈরি হয়, তাহলে আগামী বছরগুলোতে ভারতকে আরও কঠিন গরমের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতনতা এবং প্রস্তুতিই হতে পারে এই সম্ভাব্য জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে বড় উপায়।