আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছর নজিরবিহীন গরম পড়েছে ইউরোপে। তীব্র দাবদাহে গলতে শুরু করেছে বিট্রেনের বিভিন্ন অংশের রাস্তাঘাট। ভারতেও গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রার পারদ মাঝেমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। অথচ রাস্তাঘাট থাকে অক্ষত। এমন বিপর্যস্ত অবস্থা দেখা যায় না। স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কী ভাবে এই বিপুল বৈপীরিত্য দেখা যাচ্ছে?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর তারতম্যের পিছনে এক দেশ অন্য দেশের চেয়ে বেশি শক্তিশালী রাস্তা তৈরি করে, এমন নয়। আসল বিষয় হল, জলবায়ুর উপর ভিত্তি করেই রাস্তা তৈরির উপাদান বাছাই করা হয়। ব্রিটেনের মতো ইউরোপের দেশগুলি রাস্তা তৈরির সময় শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্য কোন উপরকরণ জরুরি, তাতে বিশেষ জোর দেয়। রাস্তাগুলিতে বারবার বরফ জমা এবং গলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা রাস্তায় ফাটল ও কাঠামোগত ক্ষতি তৈরি করতে পারে। সে জন্য ইউরোপের অনেক রাস্তায় হট-রোল্ড অ্যাসফল্ট এবং ডেন্স অ্যাসফল্ট কনক্রিট ব্যবহার করা হয়। এই মিশ্রণগুলিতে বিটুমিনাস পিচ এবং সূক্ষ্ম পাথরের টুকরোর পরিমাণ বেশি থাকে। যা রাস্তার উপরিভাগকে অনেক বেশি নমনীয় করে তোলে। তীব্র শীতে রাস্তায় নমনীয়তা খুব জরুরি। এর ফলে রাস্তা ফেটে না গিয়ে সহজেই প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে। এমনকি, নরম গ্রেডের বিটুমিন রাস্তাকে টেকসই রাখতেও সাহায্য করে।
এখন এই শীতকালীন সুবিধাই এবার চরম গরমে বিপদ ডেকে এনেছে। তাপমাত্রা যখন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তার উপর চলে যায়, তখন এই অ্যাসফল্ট মিশ্রণের বিটুমিন নরম হতে শুরু করে। এই অবস্থায় ভারী যানবাহন চলাচল করলে রাস্তার উপরিভাগ নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও রাস্তা দেবে যায়, তাতে চাকার দাগ তৈরি হয়। যেহেতু ব্রিটেনে ঐতিহাসিকভাবে এমন তীব্র গরম অত্যন্ত বিরল, তাই সেখানকার রাস্তাগুলি দীর্ঘস্থায়ী গরম সহ্য করার মতো করে কোনও প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেনি।
অন্যদিকে, ভারতের জলবায়ু একেবারেই আলাদা। দীর্ঘ সময় ধরে বরফ জমার কোনও বিষয় নেই। বরং রাস্তাকে মাসের পর মাস তীব্র গরম, কড়া রোদ এবং ভারী ট্রাফিকের চাপ সহ্য করতে হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারতের সড়ক নির্মাণে সাধারণত শক্ত গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়, যেমন—ভিজি-৩০ এবং ভিজি-৪০। এই উপাদানগুলির ঘনত্ব অনেক বেশি। এর ফলে তাপমাত্রা মারাত্মক বেড়ে গেলেও এগুলি নিজেদের শক্তি বজায় রাখতে পারে।
পাশাপাশি, ভারতের রাস্তার মিশ্রণে বড় আকারের পাথরের টুকরো বেশি ব্যবহার করা হয়। যা তীব্র গরমেও রাস্তার উপরিভাগকে স্থিতিশীল ও শক্ত রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অনবরত ভারী গাড়ি চললেও রাস্তা সহজে নরম হয়ে যায় না। কোনও স্থায়ী বিকৃতিও দেখা যায় না।















