আজকাল ওয়েবডেস্ক: কথায় বলে 'কুকুর মানুষের চেয়েও অধিক সেন্সিটিভ'। এরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর এক গ্রামে। মানুষ হারানোর শোকের চেয়ে বড় হয়ে উঠল এক পোষ্যের অকৃত্রিম ভালোবাসা। মৃত্যুর পরেও মালিককে একা ছাড়ল না কুকুর। সারারাত মৃতদেহ আগলে রাখা থেকে শুরু করে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ছায়ার মতো সঙ্গী হয়ে রইল সে।

সোমবার ঘর থেকে জগদীশ প্রজাপতি নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যরা যখন ঘরে ঢোকেন, দেখেন খাটের পাশেই ঠায় বসে রয়েছে তাঁর পোষ্যটি। সারারাত সেভাবেই বসে কাটিয়ে দেয় সে। চোখেমুখে নেই কোনও অস্থিরতা, কেবল নীরব পাহারা।

মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি যখন ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ট্রলির পিছনে প্রায় চার কিলোমিটার দৌড়তে থাকে কুকুরটি। ক্লান্তিতে গতি কমলেও সে দমে যায়নি। শেষমেশ পরিবারের লোকেরা তাকে গাড়িতে তুলে নিতে বাধ্য হন। হাসপাতাল থেকে ফিরে শ্মশান পর্যন্ত কোথাও সে তার মালিককে চোখের আড়াল হতে দেয়নি।

চিতা জ্বলে ওঠার পরেও দেখা যায়, সেই আগুনের পাশেই বসে রয়েছে কুকুরটি। দীর্ঘ সময় কোনও খাবার বা জল স্পর্শ করেনি সে। এমনকী পুলিশ কর্মীরাও তার এই আনুগত্য দেখে অবাক হয়ে যান। স্থানীয় থানার বড়বাবু ওই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ঠিক কী কারণে জগদীশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, তা এখনও পুলিশের কাছে পরিষ্কার নয়। তবে গ্রামের মানুষের মুখে এখন অন্য কথা। তাঁরা বলছেন, মানুষ হয়তো স্বার্থ বোঝে, কিন্তু এই অবলা প্রাণীটি কেবল বোঝে বন্ধুত্ব। যতক্ষণ না চিতার আগুন নিভে ছাই হয়েছে, ততক্ষণ সে নিজের জায়গা ছেড়ে নড়েনি।