আজকাল ওয়েবডেস্ক: চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন দিল্লির এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক। সেই অবস্থাতেই চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। স্বামীর অত্যাচারের জেরে হাসপাতালেও ভর্তি হন। শেষমেশ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লিতে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, ২৪ বছর বয়সি মৃত মহিলা পুলিশ আধিকারিকের নাম, কাজল চৌধুরী। তিনি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের এসডব্লিউএটি-র কমান্ডো ছিলেন। মঙ্গলবার গাজিয়াবাদের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর ঠিক পাঁচদিন আগে স্বামীর হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিক।
গত সপ্তাহে কাজলকে ডাম্বেল দিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। দরজায় একাধিকবার মাথা ঠুকেও তাঁকে নির্যাতন করেন। সংসারের কোনও একটি বিষয়েই কাজল ও তাঁর স্বামী অঙ্কুর চৌধুরীর কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সামান্য বচসার জেরেই কাজলের ওপর হামলা করেন তিনি।
২০২২ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন কাজল। তার আগেই অঙ্কুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু'বছর প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। বিয়ের ঠিক আগে ২০২৩ সালে দিল্লি পুলিশের কমান্ডো হিসেবে যোগদান করেন কাজল। অন্যদিকে দিল্লির ডিফেন্স মিনিস্ট্রিতে ক্লার্ক হিসেবে কাজ শুরু হয় অঙ্কুরের।
বিয়ের ঠিক ১৫ দিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে পণের দাবিতে হেনস্থার শিকার হন কাজল। পণ হিসেবে কাজ এবং আরও নগদ টাকার দাবি করেছিলেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। নির্যাতনের জেরে ২০২৪ সালে দিল্লিতে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন কাজল। এরপরেও গাড়ি ও পণের দাবিতে কাজলকে শারীরিক নির্যাতন করতেন অঙ্কুর।
২২ জানুয়ারি কাজলের ভাই নিখিলকে ফোন করে অঙ্কুর জানান, তিনি খুন করেছেন। দেহটি এসে উদ্ধার করার আর্জিও জানান। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই কাজলের দেহটি উদ্ধার করে পরিবার। থানায় অঙ্কুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তারা। মৃত মহিলা পুলিশ আধিকারিকের বাবা জানিয়েছেন, কাজল চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গর্ভবতী অবস্থাতেও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এই ঘটনার দিনেই অঙ্কুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা ছিল। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর চরম পদক্ষেপ করেন মা। ন'দিনের সদ্যোজাতর গলা কেটে খুন করেন তিনি। জেরায় খুনের ঘটনাটি স্বীকার করেছেন ঘাতক মা। শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে দিল্লির বাবা হরিদাস কলোনিতে। গোবিন্দ নামের এক ব্যক্তি থানায় এসে পুলিশকে জানান, তাঁর স্ত্রী ন'দিনের কন্যাসন্তানের গলা কেটে খুন করেছেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আবাসনের দ্বিতীয়তলায় একটি ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অন্য একটি ঘর থেকে মহিলাকে আটক করে তারা।
টানা দুইদিন জেরার পর তরুণী স্বীকার করেন, সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের গলা কেটে তিনি খুন করেছেন। কারণ, কন্যাসন্তান তিনি চাননি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গোবিন্দ পেশায় শ্রমিক। তাঁর একটি ছেলে আছে। বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও মা, ভাইও থাকেন। অভাব অনটন রয়েছে সংসারে। এই পরিস্থিতিতে কন্যাসন্তানের জন্ম মেনে নিতে পারেননি তরুণী।
