আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের টোপ দিয়ে এক নার্সিং ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। লখনউয়ের একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের এই ঘটনা জানাজানি হতেই চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, সহকর্মী ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস করেছেন অভিযুক্ত যুবক। এমনকী, তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতেও শাসানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা ওই তরুণী কাইজারবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, ওই চিকিৎসক বারবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু বিয়ের কথা বলতেই বেঁকে বসেন তিনি। বিয়ে করতে অস্বীকার করার পাশাপাশি তরুণীর ‘গোপন ছবি’ সমাজমাধ্যমে ফাঁস করার হুমকিও দেন ওই চিকিৎসক।

ডিসি বিশ্বজিৎ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। তাঁর বাড়ির ঠিকানাও যাচাই করা হচ্ছে। শীঘ্রই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নির্যাতিতার জবানবন্দি নেওয়া হবে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ১৫ দিনের মধ্যে ওই একই হাসপাতালে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এ ধরনের ঘটনা ঘটল। এর ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গের এক মহিলা চিকিৎসক তাঁরই এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও, ওই অভিযুক্ত চিকিৎসক এখনও পলাতক।

অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় এক সরকারি কলেজে ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবতী ওই কলেজেরই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পুলিশের দাবি, মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও রেকর্ড করে গিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, কলেজের এক অধ্যাপক তাঁকে দিনের পর দিন কুপ্রস্তাব দিতেন ও অশালীনভাবে স্পর্শ করতেন। শুধু তাই নয়, তিন সহপাঠী মিলে তাঁর ওপর নৃশংস র‍্যাগিং চালিয়েছে বলেও ওই ভিডিওতে জানিয়েছেন তিনি।

ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর হর্ষিতা, আকৃতি এবং কমলিকা নামে তিন ছাত্রী তাঁর মেয়েকে প্রচণ্ড মারধর ও মানসিক হেনস্থা করে। মুখ খুললে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কলেজের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধেও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন তিনি। ছাত্রীর পরিবারের দাবি, এই দুদিকের অত্যাচারে তাঁদের মেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় লুধিয়ানার একটি হাসপাতালে গত ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংবিধান এবং র‍্যাগিং বিরোধী আইনে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সুপার অশোক রতন জানান, "আগে শুধু র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছিল, কিন্তু ভিডিওটি সামনে আসার পর অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।" যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ রাকেশ পাঠানিয়ার দাবি, ওই ছাত্রী প্রথম বর্ষে তিনটি বিষয়ে ফেল করেছিলেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি নেওয়া যায়নি। অধ্যক্ষের বক্তব্য, "ভর্তি হতে না পেরে মেয়েটি হয়তো মানসিক চাপে ছিল। ২৯ জুলাইয়ের পর থেকে সে কলেজেও আসেনি। আমাদের কাছে আগে কখনও কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি।"

ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে কলেজ ক্যাম্পাসে শোরগোল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একজন ছাত্রীর এইরকম মর্মান্তিক পরিণতিতে কলেজের নিরাপত্তা ও র‍্যাগিং বিরোধী নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক অভিভাবক।