আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি সীমান্তের কাছে গ্রেপ্তার এক জঙ্গি। সোমবার, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন 'লস্কর-ই-তইবার' সদস্য শাব্বির আহমেদ লোন-কে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। শাব্বির নিজের পরিচিয় দিত রাজা বলে। শাব্বির কাশ্মীরের শ্রীনগরের কঙ্গন এলাকার বাসিন্দা।
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, রাজা বাংলাদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতে, লস্করের এই ভারত বিরোধী চক্রান্ত চলছিল। রাজার মূল কাজ ছিল ভারতে হামলার জন্য বাংলাদেশিদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিয়োগ করা। পাকিস্তানের নাম এই আক্রমণে যাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে সেজন্যই এই ব্যবস্থা। এই বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেই ভারতে বসবাস করত।
কয়েকদিন আগে দিল্লিতে ও দক্ষিণ ভারতেরও কিছু জায়গায় লস্কর-ই-তইবার এই মডিউল ধরা পড়ে। এই মডিউলের মাধ্যমে দিল্লিতে ও কলকাতার বহু জায়গায় ভারত বিরোধী পোস্টার লাগানো হয়। অর্থাৎ শুধু জঙ্গি আক্রমণের পরিকল্পণাই করা হচ্ছিল তাই নয়, ভারত বিরোধী প্রচারও চালান হচ্ছিল সমান তালে। তাও আবার ভারতের মধ্যেই।
লস্করের অনুগত এই শাব্বির ওরপে রাজা একজন দক্ষ জঙ্গি। তার প্রশিক্ষণ হয় এক জঙ্গি ক্যাম্পে। বেসিক ও অ্যাডভান্স দুই ধরনের ট্রেনিংই রয়েছে তার। গত ২০ বছর ধরে দেশ বিদেশের বড় বড় জঙ্গিদের সঙ্গে তার ওঠা-বসা। তবে, এই প্রথম তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এমনটা নয়। ২০০৭ সালেও শাব্বিরকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার কাছে একে-৪৭ রাইফেল ও অনেকগুলি গ্রেনেড-সহ আরও নানান ধরণের অস্ত্র পাওয়া গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পরে জানা যায়, তার সঙ্গে লস্করের মাথা হাফিজ সাঈদ এবং কমান্ডার জাকি-উর-রহমান লাকভিরও যোগসূত্র ছিল। সেই গ্রেপ্তারের পর সে কারাবাসে ছিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত। বন্দি ছিল তিহার জেলে। পরে জামিনে ছাড়া পায়।
ছাড়া পেয়েই বাংলাদেশে গিয়ে ফের লস্করের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাব্বির। তৈরি করে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন জঙ্গি আক্রমণের পরিকল্পনা। দায়িত্ব নেয় দক্ষ জঙ্গি তৈরির।
প্রসঙ্গত, গত বছর এপ্রিলের ২২ তারিখ পহেলগাঁও-তে জঙ্গি আক্রমণ হয়। সাধারণ পর্যটকদের উপরে গুলি করা হয়। সেই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন এবং গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন ২০ জন। তদন্তে জানা যায়, পরোক্ষভাবে হলেও এই আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত ছিল লস্কর-ই-তইবা।
বর্তমানে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। চেষ্টা চলছে গোটা লস্করের খবর জানার। ভারতে আর কোথায় কোথায় এই জঙ্গি সংগঠন ঘাঁটি তৈরি করেছে, কী ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, দেশে জঙ্গি আক্রমণ কবে কোথায় হতে পারে ইত্যাদি জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।















