আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির 'ভারত মণ্ডপম'-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসভার সদস্যদের বকেয়া কাজগুলি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়া এই বৈঠকটি টানা সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলে। সূত্র মতে, চলতি বছরের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি- কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই লক্ষ্যটিকে নিছক একটি স্লোগান হিসেবে না দেখে বরং একটি অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
বৈঠকে অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে ন'টি মন্ত্রক তাদের বিগত দিনের কর্মসম্পাদন এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করে। এই বৈঠকের সময় ক্যাবিনেট সচিব এবং নীতি আয়োগও তাদের নিজ নিজ উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে সেইসব মন্ত্রকের কাজের বিশেষ প্রশংসা করা হয়, যারা নথিপত্র বা ফাইল নিষ্পত্তিতে সর্বাধিক দ্রুততা দেখিয়েছে। এক্ষেত্রে কাজের দক্ষতা এবং গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর যথাসময়ে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকট এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রককে এমন পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন, যাতে নাগরিকদের একদম ‘ন্যূনতম অসুবিধার’ সম্মুখীন হতে হয়।
বৈঠক চলাকালীন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও মন্ত্রীদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক পাঁচ-দেশীয় সফর এবং সেই সফরের মূল কূটনৈতিক ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
এই বৈঠকে জ্বালানি, কৃষি, সার, বিমান চলাচল, নৌপরিবহন এবং লজিস্টিকসের মতো ক্ষেত্রগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং এগুলির প্রতি নিবিড় মনোযোগ দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীদের একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণ নজরদারি করছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে থাকায় রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবারের মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বর্তমানে জেনেভায় রয়েছেন।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমশ অস্থিরতা বাড়ছে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর ফলে ভারতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে থাকে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের জ্বালানি খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি জ্বালানির ব্যবহার, সোন কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।















