আজকাল ওয়েবডেস্ক: জন্মদিনের ‘উল্লাস’ করতে গিয়ে চরম বিপত্তি। বন্ধুর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলেন এক যুবক। এই ঘটনার জেরে মুম্বইয়ের কুর্লা এলাকায় গুরুতর আহত হয়েছেন একুশ বছরের এক কলেজছাত্র। পুলিশ তাঁর পাঁচ বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্দুল রেহমান খান নামে ওই কলেজছাত্রকে তাঁর এক বন্ধু ফোন করে সকালে নিচে ডেকে পাঠান। আব্দুল সেখানে পৌঁছতেই তাঁর পাঁচ বন্ধু মিলে প্রথমে তাঁকে দিয়ে কেক কাটান। এরপর ঘটনার মোড় নেয় অন্যদিকে। শুরু হয় ডিম ও পাথর ছোঁড়া।
ঠিক সেই সময় আয়াজ মালিক নামে এক বন্ধু স্কুটার থেকে পেট্রলের একটি বোতল বের করে আনেন এবং তা আব্দুলের গায়ে ঢেলে দেন। যুবক বারণ করা সত্ত্বেও মালিক একটি লাইটার দিয়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। আগুন লাগার পরই আব্দুল ছুটতে ছুটতে নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে যান। তাঁকে সাহায্যের জন্য জল দিতে বলেন। এরপর আব্দুলকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তাঁর মুখ, হাত ও বুকে মারাত্মক ক্ষত হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
আব্দুল রেহমান খানের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ‘ভারতীয় ন্যায় সংবিধান’-র ১১০ ধারায় (মানবহত্যার চেষ্টা) মামলা রুজু করেছে। মূল অভিযুক্ত আয়াজ মালিক-সহ বাকি আরও চার বন্ধু- আশরাফ মালিক, কাসিম চৌধুরী, হুজেফা খান ও শরিফ শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের এহেন আচরণের পিছনের কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ তবে পুরো ঘটনা ঘিরে তদন্তে পুলিশ৷
অন্যদিকে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা মহারাষ্ট্রে। সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মা৷ সদ্যোজাত সন্তানকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি নিয়ে আসছিলেন মা। কিন্তু মাঝপথেই ঘটে বিপত্তি। তাঁদেরকে মাঝপথেই নামিয়ে দেয় অ্যাম্বুলেন্সের চালক৷ সন্তানকে নিয়ে মাঝপথে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মহিলা, তাঁর মা ও শাশুড়ি। অনেক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও কোনও উপায় পান নি তাঁরা। এরপর প্রায় দু কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরেন সকলে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পালঘরের। অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়ছে৷
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পালঘরের আমলা গ্রামের ওই মহিলা সবিতা ভয়াবহ প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি মাখোড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ১৯ নভেম্বর ভর্তি হয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে তাঁকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপর ২৪ নভেম্বর মহিলাকে ছেড়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ হাসপাতাল থেকেই একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন সবিতা। মহিলার অভিযোগ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আগেই চালক জানিয়ে দেন তিনি আর যেতে পারবেননা৷ এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে চরম বচসাও হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক সবিতাদের মাঝপথে নামিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে যান৷ শেষে হেঁটেই দু কিলোমিটার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন সবিতা৷
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে হুলুস্থুল। এলাকায় বিক্ষোভ করে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয়রা৷ জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে এই ঘটনার খবর পৌঁছতেই তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
