আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন তীব্র মন্তব্য করল বোম্বে হাইকোর্ট। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এসডিপিআই-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরীর এক্সটার্নমেন্ট বা এলাকা ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে বিচারপতি মাধব জামদার রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি সরাসরি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া বা কেন্দ্রের নীতির প্রতিবাদ করার অপরাধে কোনও  নাগরিককে এলাকাছাড়া করা যায় না। নাগরিকদের প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে এবং এই কারণে যদি মামলা দিয়ে কাউকে হেনস্থা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ যেন সরকারের দাসে পরিণত হবে।

সাঈদ আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সাল থেকে এনআরসি, সিএএ এবং ওয়াকফ সংশোধনী বিলের মতো কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধর্ণা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে মুম্বাই ও তার আশেপাশের জেলা থেকে এক বছরের জন্য এলাকাছাড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত পাঁচটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলার দিকে নজর দিয়ে বিচারপতি জামদার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, যদি বিজেপি সরকার কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘মুর্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ার কারণে কাউকে এলাকাছাড়া করা হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। এই পুরো ব্যবস্থাটিকে তিনি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন, যা সংবিধানের ১৪ নম্বর ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।

?ref_src=twsrc%5Etfw">July 3, 2026

তবে আদালতের এই এজলাসের আলোচনা শুধু প্রতিবাদের অধিকারেই থমকে থাকেনি। বিচারপতি জামদার মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক দলবদলের খেলা নিয়ে এক মারাত্মক রাজনৈতিক কটাক্ষ ছুড়ে দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষ যখন নিত্যদিনের সমস্যায় জর্জরিত, তখন বিধানসভায় আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে কে কোন দলে যোগ দিচ্ছে বা কে প্রিসাইডিং অফিসার হচ্ছে। সাঈদ চৌধুরীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা মাথায় রেখে বিচারপতি উপহাসের সুরে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেহেতু বেশ কিছু এফআইআর রয়েছে, তাই তাঁরও বোধহয় দলবদল করার কথা ভাবা উচিত। কারণ মহারাষ্ট্রে এখন প্রকাশ্যেই ‘হর্স ট্রেডিং’ বা রাজনৈতিক ঘোড়া-বেচাকেনা চলছে এবং একটা চমৎকার ‘ওয়াশিং মেশিন’ সক্রিয় রয়েছে, যা সমস্ত অপরাধ ধুয়ে মুছে সাফ করে দিতে পারে।

বিচারপতির এই সপাট এবং শ্লেষাত্মক মন্তব্য সামনে আসতেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে। বিশেষ করে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) এই পর্যবেক্ষণকে দুই হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানিয়েছে। অতি সম্প্রতি দলটির নয়জন লোকসভা এমপির মধ্যে ছয়জনই দল ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দিয়েছেন, যা উদ্ধব শিবিরের জন্য ছিল এক বিরাট ধাক্কা। স্বভাবতই আদালতের মুখে ‘হর্স ট্রেডিং’ ও ‘ওয়াশিং মেশিন’ শব্দের প্রয়োগ শুনে স্বস্তি পেয়েছে তারা। উদ্ধব সেনার নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বিচারপতির এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট বা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সরাসরি লিখেছেন, "ধন্যবাদ জাস্টিস জামদার"। এই ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের শাসক দলের ‘ওয়াশিং মেশিন’ নীতি এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের অধিকার— দুই বিষয় নিয়েই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আবার নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে।